পুজোর পেটপুজোয় হু হু করে বাড়ছে সুগার? ঝটপট ব্লাড সুগার কন্ট্রোলে রাখার জাদুকরি উপায় জেনে নিন!

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে লক্ষ্মীপুজো এবং আসন্ন দীপাবলি— এই পুরো মরসুমটিই মূলত কবজি ডুবিয়ে খাওয়া-দাওয়া এবং দেদার মিষ্টিমুখের সময়। তেল-মশলাদার মুখরোচক পদ থেকে শুরু করে হরেক রকমের মিষ্টান্ন, আইসক্রিম কিংবা পেস্ট্রির লোভ সামলানো কার সাধ্য! সারা বছর স্বাস্থ্যসচেতন বাঙালিও উৎসবের এই দিনগুলিতে ডায়েট ও রুটিন শিকেয় তুলে নিয়ম ভেঙে ফেলার আনন্দে মেতে ওঠেন। আর তার জেই ফলস্বরূপ রক্তে চিনির মাত্রা বা ব্লাড সুগার এবং শরীরের ওজন হু হু করে ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে। উৎসবের এই অতিরিক্ত ভোজনরসিকতার পর কীভাবে শরীরের সুগার ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন বিশিষ্ট ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডঃ আশিস মিত্র।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতে, উৎসবের মরসুমে অনিয়ন্ত্রিত খাওয়াদাওয়ার জেরে শরীরে যে অতিরিক্ত ক্যালোরি ও সুগার জমা হয়, তা নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত দৈনন্দিন রুটিনে ফিরে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি। উৎসবের রেশ কাটতেই খাবারের তালিকা থেকে সাময়িকভাবে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ একেবারে কমিয়ে ফেলতে হবে বা যথাসম্ভব বাদ দিতে হবে। কার্বোহাইড্রেটের পরিবর্তে পাতে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে। এর পাশাপাশি বাড়িয়ে দিতে হবে শরীরচর্চার মাত্রা। সাধারণত খাওয়ার পর অল্প হাঁটার পরামর্শ দেওয়া হলেও, এই বিশেষ সময়ে প্রতিটি প্রধান খাবারের পরে অন্তত পনেরো মিনিট করে হাঁটা বাধ্যতামূলক করা উচিত। এছাড়া প্রয়োজনে জিমে গিয়ে ওয়েট ট্রেনিং বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে শরীরে জমে থাকা বাড়তি ক্যালোরি ঝরিয়ে ফেলা সম্ভব।

তবে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি যাঁরা ইতিমধ্যেই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাঁদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি। উৎসবের আনন্দ উদযাপনের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত মিষ্টি বা মুখরোচক খাবার খেয়ে ফেললে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তের গ্লুকোজ লেভেল বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে। এই প্রসঙ্গে ডঃ আশিস মিত্র পরামর্শ দিয়েছেন যে, অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়া হয়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ইনসুলিনের মাত্রা বা ডোজ সাময়িকভাবে কিছুটা বাড়িয়ে নিতে হবে। তবে নিজে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে তবেই ইনসুলিন বা ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন করতে হবে। পাশাপাশি নিয়ম করে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস বজায় রাখা বাঞ্ছনীয়। প্রতিদিন সকালে অন্তত পহর খানেক অর্থাৎ পঁয়তাল্লিশ মিনিট এবং প্রতিবার ভারী খাবারের পরে দশ থেকে পনেরো মিনিট নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

উৎসবের মরসুম শেষ হতে না হতেই সামনেই কড়া নাড়ছে শীতকাল। আর শীত মানেই ঘরে ঘরে নতুন গুড়ের পায়েস, ভাপা পিঠে, মোয়া থেকে শুরু করে ক্রিসমাসের কেক-পেস্ট্রির লোভনীয় হাতছানি। এই সমস্ত পরবর্তী উৎসবের মরসুমগুলির কথা মাথায় রেখে এখন থেকেই নিজেদের প্রস্তুত করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। শীতের পিঠেপুলি বা বড়দিনের ভুরিভোজের ধাক্কা সামলাতে হলে এখন থেকেই শারীরিক কসরত ও হাঁটার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। প্রতিদিন একবেলা নিয়ম করে পঁয়তাল্লিশ মিনিট হাঁটার অভ্যাস থাকলে তা বাড়িয়ে দুই বেলা করতে হবে। প্রয়োজনে জিম বা নিয়মিত ফিজিক্যাল ট্রেনিংয়ের সাহায্য নিতে হবে। পরিমিত আহার এবং সঠিক জীবনযাত্রার শৃঙ্খলা বজায় রাখলেই উৎসবের আনন্দ উপভোগ করার পাশাপাশি সুগার ও ওজনকে চিরতরে বশে রাখা সম্ভব।