৩৫ কেজি নয়, এবার মিলবে ৫০ কেজি চাল! সঙ্গে ৫০০০ টাকা— দীপাবলির মুখে উত্তরবঙ্গে বড় ঘোষণা!

দীপাবলির ঠিক মুখেই উত্তরবঙ্গের চা-বাগান শ্রমিকদের জন্য বিরাট স্বস্তির বার্তা। চা-বাগান এলাকার শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শ্রমিকদের রেশনের চাল বাড়ানো, আর্থিক সহায়তা প্রদান থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকা চা-বাগানগুলি দ্রুত ফের চালু করার বিষয়ে প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
উত্তরকন্যায় আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে উত্তরবঙ্গের চা-বাগান এলাকার একাধিক দীর্ঘদিনের দাবিদাওয়া ও সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে শ্রমিক পরিবারগুলি যে পরিমাণ রেশনের চাল পায়, তা ৩৫ কেজি থেকে বাড়িয়ে একধাক্কায় ৫০ কেজি করার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এর পাশাপাশি শ্রমিক পরিবারগুলির জন্য ৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার কথাও জানানো হয়েছে।
বন্ধ বাগান চালু ও কর্মসংস্থানের উদ্যোগ: উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু চা-বাগান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা ও সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বহু শ্রমিক। এই পরিস্থিতি বদলাতে বন্ধ বাগানগুলি দ্রুত চালু করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে এই বিষয়ে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। বৈঠকে আরও জানানো হয় যে, শ্রমিকদের সরকারি সুরক্ষার আওতায় আনতে ‘জব কার্ড’ এবং ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক প্রকল্প’-এর সমস্ত সুযোগ-সুবিধা যাতে প্রকৃত ও উপযুক্ত মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করবে প্রশাসন।
কালিম্পঙে মেডিক্যাল কলেজ ও কামতাপুরী ভাষার স্বীকৃতি: এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে চা-বাগানের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও রূপরেখা তৈরি হয়। কালিম্পঙে প্রস্তাবিত নতুন মেডিক্যাল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সম্ভাব্য দিন হিসেবে ৯ ডিসেম্বর তারিখটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, কামতাপুরী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে একটি প্রতিনিধিদল মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাদের স্মারকলিপি তুলে ধরে।
উৎসবের মরশুমে চা-বাগান শ্রমিকদের আর্থিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিতে এই একাধিক ঘোষণা উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অলিন্দে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।