১৫ ফেব্রুয়ারি নয়, মার্চে শুরু হবে পরীক্ষা? রুটিন বদলের বিরাট সম্ভাবনায় চরম উৎকণ্ঠায় পরীক্ষার্থীরা!

আসন্ন ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও সংশয় তৈরি হয়েছে। আগামী বছরের শুরুতেই দেশজুড়ে জনগণনার দ্বিতীয় দফার কাজ শুরু হতে চলায় এবং সেই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কর্মযজ্ঞে রাজ্যের বিপুল সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষিকাকে বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত থাকতে হওয়ার সম্ভাবনার জেরেই দুই বড় পর্ষদ ও সংসদ পরীক্ষার রুটিন বদলের চূড়ান্ত চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, পূর্বঘোষিত নির্ঘণ্ট মেনে পরীক্ষা পরিচালনা করা প্রশাসনিকভাবে অসম্ভব হয়ে দাঁড়াতে পারে আশঙ্কা করেই রুটিন পরিবর্তনের প্রস্তাব স্কুলশিক্ষা দফতরের কাছে পাঠানো হয়েছে।

পূর্বঘোষিত সরকারি সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিক একই সময়ে অর্থাৎ ২৫ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জনগণনার দ্বিতীয় ধাপের কাজ চলার কথা রয়েছে এবং সংশোধনী সহ এই সুবৃহৎ প্রক্রিয়া শেষ হতে প্রায় ৫ মার্চ পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। এমতাবস্থায়, রাজ্যের হাজার হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকাকে যখন একযোগে সেনসাসের মতো সংবেদনশীল ও জটিল কাজে ব্যস্ত থাকতে হবে, তখন একই সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি, কেন্দ্র পরিচালনা, কড়া পাহারা এবং খাতা দেখার মতো গুরুদায়িত্বগুলি সুষ্ঠুভাবে সামলানো যে অসম্ভব হয়ে পড়বে, তা বলাই বাহুল্য। এই বাস্তব পরিস্থিতি মাথায় রেখে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ মাধ্যমিক পরীক্ষার রুটিন পিছিয়ে দেওয়ার এক নতুন খসড়া প্রস্তাব স্কুলশিক্ষা দফতরের কাছে জমা দিয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন সূচি অনুযায়ী, আগামী ২ মার্চ থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত মাধ্যমিক পরীক্ষা নেওয়ার কথা চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে, যা শিক্ষা দফতরের সবুজ সংকেত পেলেই চূড়ান্ত বলে ঘোষিত হবে।

মাধ্যমিকের পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সূচিতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে সম্প্রতি উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি অসিতকুমার মণ্ডল স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, মাধ্যমিকের পরিবর্তিত সম্ভাব্য সময়ের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্য রেখে আগামী বছরের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাও ১৬ মার্চের পর থেকে শুরু করার বিষয়ে தீவிர ভাবনাচিন্তা চলছে এবং সেই অনুযায়ী খসড়া রুটিন তৈরির কাজও সমান্তরালভাবে এগিয়ে চলেছে। তবে এতসব প্রশাসনিক প্রস্তুতির মাঝেই শিক্ষক ও শিক্ষা মহলের অন্দরে এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। শিক্ষকদের একাংশ মনে করছেন যে, জনগণনার কাজের চাপে পরীক্ষার সময় পর্যাপ্ত শিক্ষক পাওয়া না গেলে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থা চরম অব্যবস্থার মুখে পড়ত, তাই পরীক্ষা পেছানোর সিদ্ধান্তটি বাস্তবসম্মত। অন্যদিকে, ‘শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ’-এর সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারীর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা জোরালো সওয়াল করে বলেছেন যে, ছাত্রছাত্রীরা দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট রুটিন মাথায় রেখে মানসিক প্রস্তুতি নেয়, তাই অযথা পরীক্ষার সূচি না বদলে সেনসাসের নির্ধারিত তারিখ বা বিকল্প বন্দোবস্ত করা উচিত ছিল, যাতে পড়ুয়াদের ওপর কোনো মানসিক চাপ না পড়ে। সব মিলিয়ে, চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নজর এখন শিক্ষা দফতরের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নিবদ্ধ রয়েছে।