পাহাড়ে ২১ কিমি দীর্ঘ ইতিহাস! কার্শিয়াং থেকে সোজা দার্জিলিং এবার রোপওয়েতে, উত্তরবঙ্গে বিরাট মেগা ধামাকা

উত্তরবঙ্গের পর্যটন, যোগাযোগ এবং স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় এক ঐতিহাসিক মোড়। টয়ট্রেনের পর এবার পাহাড়ে ঘুরতে আসা পর্যটকদের জন্য আসতে চলেছে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। কার্শিয়াং থেকে সোজা দার্জিলিং পর্যন্ত দীর্ঘ ২১ কিলোমিটারের এক নতুন রোপওয়ে প্রকল্পের অনুমোদন মিলল। সোমবার উত্তরকন্যায় আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠকে পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের সার্বিক উন্নয়নে একাধিক যুগান্তকারী প্রকল্পের সবুজ সংকেত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

নবান্ন ও প্রশাসনিক সূত্রে খবর, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের এই বৈঠকে রাজ্য সরকারের লক্ষ্য মূলত পর্যটন শিল্পকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়া এবং সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তোলা।

পাহাড়ে যোগাযোগের নতুন রূপরেখা: বর্তমানে দার্জিলিংয়ে যে রোপওয়ে পরিষেবা চালু রয়েছে, তা মূলত নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু প্রস্তাবিত ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন কার্শিয়াং-দার্জিলিং রোপওয়ে চালু হলে তা কেবল পর্যটকদের ঝুলন্ত পথে কাঞ্চনজঙ্ঘা ও সবুজ পাহাড় দেখার অনন্য অভিজ্ঞতাই দেবে না, বরং দুই শহরের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এক বিকল্প ও পরিবেশবান্ধব পথ তৈরি করবে। প্রশাসনের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতির চেহারা পাল্টে যাবে এবং বিপুল সংখ্যায় কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

কালিম্পঙে নতুন মেডিক্যাল কলেজ: শুধু যোগাযোগ বা পর্যটনই নয়, পাহাড়ের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় বড় স্বস্তি আনতে কালিম্পঙে একটি নতুন মেডিক্যাল কলেজ তৈরির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। আগামী ৯ ডিসেম্বর এই নতুন মেডিক্যাল কলেজের আনুষ্ঠানিক শিলান্যাস করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কালিম্পঙে মেডিক্যাল কলেজ চালু হলে পাহাড়ের অধিবাসীদের বিশেষ বা জটিল চিকিৎসার জন্য আর কষ্ট করে সমতলের হাসপাতালে দৌড়াতে হবে না।

এর পাশাপাশি শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন অঞ্চলের অন্যান্য প্রধান হাসপাতালগুলির আধুনিকীকরণ, পর্যটন কেন্দ্রগুলির সংস্কার এবং ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়নে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, পর্যটন ও আধুনিক পরিকাঠামোর জোড়া ধারায় উত্তরবঙ্গকে আন্তর্জাতিক মানের করে তোলাই এখন মূল লক্ষ্য।