একই ব্যক্তির কাছে ভারত ও বাংলাদেশের পাসপোর্ট! SIR-এর পরও ভোটার তালিকা নিয়ে বড়সড় চাঞ্চল্য!

ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিয়ে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেও একাধিক প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়ে সামনে এল এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন বা সংশ্লিষ্ট বিশেষ রিপোর্টের পরেও রাজ্যের ভোটার তালিকায় নাম থাকা বহু ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে এবার বড়সড় সন্দেহের মেঘ ঘনীভূত হয়েছে। সূত্রের খবর, দুশোরও বেশি এমন ব্যক্তির সন্ধান মিলেছে যাঁদের কাছে ভারতের পাশাপাশি অন্য দেশের পাসপোর্ট এবং বিভিন্ন সরকারি নথি রয়েছে। ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস বা এফআরআরও (FRRO)-র পাঠানো এই বিশেষ তথ্যের ভিত্তিতে এবার কঠোর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক বা ইআরও (ERO)-দের। ইতিমধ্যেই হাওড়ার শিবপুরের একটি ঘটনায় তদন্ত করতে নেমে চক্ষু চড়কগাছ হয়েছে প্রশাসনের।

স্বরাষ্ট্র দফতর সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গিয়েছে, গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে এফআরআরও-র তরফে দুই শতাধিক ব্যক্তির গোপন তথ্য পাঠানো হয়েছে। সেই তালিকা খতিয়ে দেখা গিয়েছে যে, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিদের অনেকের কাছেই ভারতীয় পাসপোর্টের পাশাপাশি অন্য কোনো ভিনদেশি পাসপোর্টও মজুত রয়েছে। শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি তাঁদের দখলে ভারতীয় ভোটার কার্ড, আধার কার্ড এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিচয়পত্রও বহাল তবিয়তে রয়েছে। এই সমস্ত গরমিল ও ভিনদেশি সংযোগের তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই সামগ্রিক তদন্তের অংশ হিসেবে হাওড়ার শিবপুরের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত চালাতে গিয়ে রীতিমতো চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছেন সংশ্লিষ্ট ইআরও। তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, ওই ব্যক্তির কাছে ভারত ও বাংলাদেশ—উভয় দেশেরই বৈধ পাসপোর্ট রয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর কাছে ভারতীয় ভোটার কার্ড ও আধার কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও পাওয়া গিয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তদন্ত চলাকালীন জেরার মুখে ওই ব্যক্তি নিজে মুখেই স্বীকার করেছেন যে তিনি আদতে বাংলাদেশের নাগরিক। শুধু তাই নয়, ভারতীয় ভোটার তালিকা থেকে নিজের নাম পাকাপাকিভাবে বাদ দেওয়ার জন্য তিনি ইতিমধ্যে ৭ নম্বর ফর্মও জমা দিয়েছেন। স্থানীয় ইআরও-র নিবিড় তদন্তে এই তথ্য সামনে আসার পরই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র গুঞ্জন।

শিবপুরের এই একক ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে এফআরআরও-র পাঠানো বাকি সমস্ত তথ্যও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব, পাসপোর্টের বৈধতা এবং অন্যান্য সরকারি প্রামাণ্য নথির সত্যতা যাচাইয়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইআরও-দের। স্বরাষ্ট্র দফতরের সাফ নির্দেশ, এই সমস্ত তথ্যানুসন্ধানে কোনো রকম অনিয়ম বা ভিনদেশি অনুপ্রবেশের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এসআইআর-পরবর্তী সময়েও ভোটার তালিকা সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত ও সুরক্ষিত রাখতে এফআরআরও-র পাঠানো এই রিপোর্টকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে দেখছে রাজ্য নির্বাচন দফতর। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) দফতরও।