“প্রতিবাদের নামে অনির্দিষ্টকাল রাস্তা দখল কেন?” যন্তর মন্তর মামলায় তোলপাড় সুপ্রিম কোর্টে! প্রধান বিচারপতির কড়া প্রশ্ন

গণতন্ত্রে প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ প্রদর্শন করার অধিকার সকলেরই রয়েছে। কিন্তু সেই অধিকার প্রয়োগের নামে বছরের পর বছর বা দিনের পর দিন কি কোনো নির্দিষ্ট স্থান দখল করে রাখা যায়? মঙ্গলবার যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি সংক্রান্ত এক স্পর্শকাতর মামলার শুনানিতে এমনই কড়া ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রশ্ন তুলল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের পর্যবেক্ষণ, প্রতিবাদ জানানোর জন্য স্থান নির্দিষ্ট থাকে ঠিকই, কিন্তু সে ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকা অত্যন্ত জরুরি। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন অনির্দিষ্টকালের জন্য কোনো স্থান স্তব্ধ করে রাখতে পারে না।
অন্যদের প্রতিবাদের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া যায় না: প্রধান বিচারপতি দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে একটি গত মাসের প্রতিবাদ জমায়েতকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় জানান, প্রতিবাদের অধিকার যেমন একদল মানুষের রয়েছে, তেমনই দেশের অন্য নাগরিকদেরও সেই সমান অধিকার প্রযোজ্য।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত প্রশ্ন তোলেন— “কোনো একটি নির্দিষ্ট জায়গা যদি দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দল দখল করে রাখে, তবে কৃষক, আইনজীবী বা অন্যান্য বঞ্চিত প্রতিবাদকারীরা কোথায় যাবেন? ক্ষোভ প্রকাশের অধিকার তো সবার জন্যই সমান থাকা উচিত।”
সংসদ সাধারণ কোনো রাজনৈতিক ভবন নয়: তোপ সলিসিটর জেনারেলের মামলার শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সওয়াল করতে উঠে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক যারা দেবে, সেই কর্মসূচির ফলে কোনো অপ্রীতিকর বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে তার সম্পূর্ণ দায়ভারও উদ্যোক্তাদেরই নিতে হবে।
বিগত ২০ জুলাইয়ের এক প্রতিবাদ কর্মসূচির উল্লেখ করে তুষার মেহতা আদালতকে জানান, সে দিন কেবল একদিনের জন্যই বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার পরও আন্দোলনকারীরা সেখানে অবস্থান বজায় রাখেন এবং সংসদ ভবন অভিমুখে মিছিল নিয়ে রওনা দেন।
তিনি সুর চড়িয়ে বেঞ্চকে বলেন, “সংসদ সাধারণ কোনো রাজনৈতিক ভবন নয় যে চাইলেই সেখানে নিয়ম ভেঙে মিছিল করে ঢুকে পড়া যাবে। ঠিক যেভাবে সুপ্রিম কোর্টের ভেতরেও মিছিল করে কেউ ঢোকার কল্পনা করতে পারে না।”
উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সম্প্রতি বিরোধী দলগুলি যন্তর মন্তরে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখিয়েছিল। সেই উত্তপ্ত আবহেই গত ১২ অক্টোবর দিল্লি পুলিশ দিল্লির নির্দিষ্ট বিক্ষোভস্থলগুলির তালিকা থেকে যন্তর মন্তরকে সাময়িকভাবে বাদ দেয়। মামলাটির জল এখন গড়িয়েছে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত, যেখানে পরবর্তী নির্দেশিকার ওপর চোখ রাখছে পুরো দেশ।