পুজোর আগে কি পণ্ড হবে উইকেন্ডের আনন্দ? বঙ্গোপসাগরে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় আবহাওয়ায় আসছে কি বিরাট বদল?

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া আগের নিম্নচাপের রেশ পুরোপুরি কেটে যাওয়ার আগেই বাংলার আকাশে ফের জাঁকিয়ে বসেছে বৃষ্টির ভ্রুকুটি। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, আজও রাজ্যের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (IMD) পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন ধরে দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টির এই লাগাতার দাপট বজায় থাকবে। বিশেষ করে সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত বাংলার আবহাওয়া অত্যন্ত প্রতিকূল থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, বুধবার সারাদিনই কলকাতা সহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে মেঘলা আকাশ থাকবে এবং দফায় দফায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শহরের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় বাতাসে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি চরম মাত্রা নেবে। এছাড়া বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সময় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে, যার জেরে সাধারণ মানুষকে রাস্তায় চলাচলের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির আবহাওয়া পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আজ বুধবার থেকেই গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টাও এই একই রকম আবহাওয়া বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৮ ও ২৯ অগাস্ট দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এমনকি ৩০ অগাস্টেও রাজ্যের কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকায় ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ায় স্বস্তির লেশমাত্র নেই। দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় আগামী কয়েকদিন উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টির তীব্রতা অনেক বেশি থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। বিশেষ করে পাহাড়ঘেঁষা এবং সংলগ্ন জেলাগুলিতে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা থাকায় পাহাড়ি রাস্তায় ধস নামার এবং নিচু এলাকাগুলিতে জল জমে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তাই নদী ও পাহাড়ি পথ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সবমিলিয়ে, চলতি সপ্তাহের বাকি দিনগুলিতেও বাংলার আকাশে বর্ষার এই প্রবল দাপট বজায় থাকার পরিষ্কার ইঙ্গিত মিলেছে। তাই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বেরোনোর আগে আবহাওয়ার লেটেস্ট আপডেট দেখে নেওয়া এবং বিশেষ করে বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।