অস্ত্রোপচারের টেবিলেই গান ধরলেন সোনু নিগম! কেন এমন কাণ্ড করলেন জনপ্রিয় গায়ক? জানলে চমকে যাবেন!

সংগীত দুনিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় তারকা সোনু নিগম সম্প্রতি এক ব্যতিক্রমী ঘটনার মধ্য দিয়ে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন। নিজের বাম হাতের অনামিকায় থাকা একটি পুরনো ও বারবার ফিরে আসা টিউমার বা পিণ্ড অপসারণের জন্য সম্প্রতি তাঁর একটি ছোট অস্ত্রোপচার করা হয়। সম্পূর্ণ নিরাপদ ও লোকাল অ্যানেস্থেশিয়ার মাধ্যমে এই চিকিৎসা সম্পন্ন হওয়ায় গায়ক পুরো সময়টাই পুরোপুরি সচেতন ছিলেন। চিকিৎসা চলাকালীন অপারেশন থিয়েটারের ভীতি ও নিজের অস্বস্তি কাটাতে, এবং চিকিৎসকদের দলকে বিনোদন দিতে তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে গান গাইতে শুরু করেন। এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরেই তা মুহূর্তের মধ্যে ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায়।
এদিকে এই ঘটনার পাশাপাশি চিকিৎসকরা আঙুলে বা ত্বকের নিচে হওয়া বিভিন্ন পিণ্ড নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য প্রকাশ করেছেন। সাধারণত আঙুলে কোনো পিণ্ড বা ফোলা ভাব দেখলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং অনেকেই মনে করেন যে এটি কেবল শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি বা গাউটের লক্ষণ। তবে চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। আঙুল বা পায়ের আঙুলে পিণ্ড তৈরি হওয়ার পেছনে অস্থিসন্ধি, টেন্ডন, ত্বক কিংবা নরম কলার নানা জটিল কারণ লুকিয়ে থাকতে পারে।
রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে গেঁটে বাত বা গাউটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চললে অস্থিসন্ধির চারপাশে মনোসোডিয়াম ইউরেট ক্রিস্টাল বা শক্ত স্ফটিক জমা হতে থাকে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘টোফাই’ বলা হয়। এগুলি মূলত হাতের আঙুল, পায়ের আঙুল ও কনুইয়ের আশেপাশে স্পষ্ট দেখা যায়। তবে সব পিণ্ডই যে ইউরিক অ্যাসিডের কারণে হয়, এমনটা নয়। অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের মতো রোগেও এমন লক্ষণ প্রকাশ পায়। অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রে হাড়ের অতিরিক্ত বৃদ্ধির ফলে শক্ত পিণ্ড তৈরি হয়, যাকে ‘বুচার্ড নোড’ বলা হয়। অন্যদিকে, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের কারণে জয়েন্টে তীব্র ব্যথা ও শক্ত ‘রিউমাটয়েড নোডিউল’ দেখা দিতে পারে।
আটপৌরে জীবনের সাধারণ সমস্যা ছাড়াও গ্যাংলিয়ন সিস্ট কিংবা মিউকাস সিস্টের কারণেও এমন পিণ্ড তৈরি হতে পারে। অনেক সময় আঙুলে আঘাত, সংক্রমণ কিংবা ক্ষতিকর টিউমারের উপস্থিতিও এর জন্য দায়ী থাকতে পারে। চিকিৎসকদের কঠোর সতর্কতা, বাড়িতে কস্মিনকালেও এই ধরনের পিণ্ড ফাটানোর বা নিজে থেকে অপসারণের চেষ্টা করা উচিত নয়। যদি পিণ্ডটি দীর্ঘস্থায়ী হয়, দ্রুত আকার ধারণ করে কিংবা তীব্র ব্যথা ও লালচে ভাব তৈরি করে, তবে দেরি না করে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।