পুজোর আগেই বড় ধাক্কা! বাঁকুড়ায় পঞ্চায়েত হারালো বিজেপি, দখলের পথে তৃণমূল

রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাঁকুড়ার রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সোনামুখী ব্লকের মানিকবাজার গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপির এক নির্বাচিত সদস্য তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় পঞ্চায়েতটি হাতছাড়া হয়েছে বিজেপির। এখন এই পঞ্চায়েতটি দখল করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল।

পঞ্চায়েত দখলের নেপথ্যে
গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে মানিকবাজার গ্রাম পঞ্চায়েতের ৯টি আসনের মধ্যে বিজেপি জিতেছিল ৫টিতে এবং তৃণমূল ৪টিতে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে পঞ্চায়েতটি বিজেপির দখলে ছিল। কিন্তু গতকাল বিজেপির জয়ী পঞ্চায়েত সদস্যা শ্যামলী লোহার তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় বিজেপির সদস্য সংখ্যা কমে ৪ হয়ে যায়, যা তৃণমূলের সমান। এর ফলে বিজেপি এখন সংখ্যালঘু।

শ্যামলী লোহার দাবি করেছেন, তিনি বিজেপিতে থেকে এলাকার উন্নয়ন করতে পারছিলেন না। তাই তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল আগামী ১০ দিনের মধ্যে অনাস্থা এনে পঞ্চায়েতটি দখল করার কথা ঘোষণা করেছে।

আরও দুই সদস্যের দলবদল
শুধু মানিকবাজার নয়, পার্শ্ববর্তী পূর্ব নবাসন গ্রাম পঞ্চায়েতেরও দুই নির্বাচিত বিজেপি সদস্য তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। যদিও এই পঞ্চায়েতের ২৩টি আসনের মধ্যে বিজেপির ১৬টি আসন থাকায় আপাতত এটি তাদের দখলেই থাকছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর
বিজেপি এই দলবদলকে সম্পূর্ণ বেআইনি এবং জোরপূর্বক বলে দাবি করেছে। সোনামুখীর বিজেপি বিধায়ক দিবাকর ঘরামি বলেন, “পুলিশ-প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে গরিব ও খেটে খাওয়া মানুষদের ভয় দেখিয়ে তৃণমূলে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন যে তৃণমূল একটি “ডুবন্ত জাহাজ”।

অন্যদিকে, তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুব্রত দত্ত বিজেপির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, “ভুল বুঝিয়ে ওই সদস্যদের বিজেপিতে রাখা হয়েছিল। এখন উন্নয়নের স্বার্থে তাঁরা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, “বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যরা এখন শ্বাসকষ্টে ভুগছেন।”

বিধানসভা নির্বাচনের আগে এমন দলবদল রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ বাড়াচ্ছে। এই ঘটনা উভয় দলের জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ।