পুজোর অনুদানে বড় বদল! আগের মতো আর ঢালাও টাকা নয়, কাদের জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর?

মে মাসে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে আসছে বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। নতুন সরকারের আমলে এটাই প্রথম শারদোৎসব। তবে পুজো অনুদান ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে এতদিন জল্পনা তুঙ্গে ছিল। অবশেষে সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিলেন, আগের সরকারের মতো রাজ্যের সমস্ত দুর্গাপুজো কমিটিকে আর ঢালাও আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে না।

কাদের অনুদান দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার?

নবান্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, যে সমস্ত পুজোর বাজেট ১০ লক্ষ টাকার নীচে, শুধুমাত্র সেই সমস্ত ছোট পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক অনুদান দেওয়ার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। যে সব কমিটির সত্যিই আর্থিক প্রয়োজন রয়েছে, প্রশাসন বেছে বেছে কেবল তাদেরই সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। অর্থ দফতরের সঙ্গে বিশদে আলোচনার পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন।

বিগত সরকারের অনুদানের চিত্র

উল্লেখ্য, গত বছর পর্যন্ত তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশ-অনুমোদিত প্রতিটি পুজো কমিটিকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হতো। ২০২০ সালে করোনাকালে প্রথম ৫০ হাজার টাকা অনুদান চালু করা হয়েছিল, যা ধাপে ধাপে বেড়ে ২০২৫ সালে ১ লক্ষ ১০ হাজারে পৌঁছয়। সবমিলিয়ে অনুদানের মোট পরিমাণ পৌঁছে গিয়েছিল প্রায় ৪৭৩ থেকে ৪৯৫ কোটি টাকায়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিলেও ৮০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হতো। তবে নতুন সরকার আসার পর সেই নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে।

নবান্নে ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর সঙ্গে বৈঠক

এই আবহে সম্প্রতি নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কলকাতার পুজো কমিটিগুলির প্রধান সংগঠন ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর দুই কর্তা— বালিগঞ্জ কালচারালের অঞ্জন উকিল এবং বেহালা নূতন দলের সন্দীপন বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ-ও।

বৈঠকে বড় রাস্তা ও গলির দুর্গা পুজো, বিদ্যুতের ছাড়, হোর্ডিং-ব্যানারে কর্পোরেশন ট্যাক্সে ছাড় এবং পুজোর অনুদান— এই সমস্ত বিষয় নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী চলতি মাসেই এই নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠক করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর আশ্বাস দিয়েছেন।

ছোট ক্লাবগুলির আশা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ফোরামের এই বার্তা সামনে আসতেই কলকাতার বহু ছোট পুজো কমিটি আশাবাদী হয়ে উঠেছে যে এ বার তারাও সরকারি অনুদান পেতে পারে। তবে সরকারের অবস্থান পুরোপুরি স্পষ্ট না হওয়ায় এখনও অনেকে পুজোর বাজেট চূড়ান্ত করতে পারেনি, কেউ কেউ বাধ্য হয়ে থিম বা থিমশিল্পীও বদল করেছে।

উত্তর কলকাতার টালা প্রত্যয়ের কর্তা দেবাশিস সোম ছোট পুজোকে গুরুত্ব দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। অন্যদিকে বেহালা সাহাপুর সাংগঠনিক ক্লাবের মৈনাক চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁদের বাজেট ৫ লাখেরও কম, তাই সরকারি অনুদান পেলে পুজোর আয়োজন আরও ভাল হবে। আপাতত তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন।

পাশাপাশি, পূর্বের সরকারের আমলে যে জাঁকজমকপূর্ণ ‘পুজো কার্নিভাল’-এর আয়োজন করা হতো, নতুন সরকারের আমলে তা হবে কিনা, তা নিয়েও পুজো কমিটিগুলির মধ্যে এখনও ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে।