পুজোয় রেলের বাম্পার উপহার! শিয়ালদহ মেইন ও বজবজ শাখায় এক ধাক্কায় বাড়ল ট্রেন ও নতুন স্টপেজ!

দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে শহরতলির লক্ষাধিক যাত্রীর যাতায়াত আরও দ্রুত, সুবিধাজনক এবং আরামদায়ক করে তুলতে একাধিক যুগান্তকারী পরিচালনামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করল পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশন। উৎসবের মরশুমে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে পরীক্ষামূলক ভাবে একাধিক নতুন ট্রেন পরিষেবা চালু করার পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে নতুন স্টপেজ ও গভীর রাতের লোকাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, শান্তিপুর ও কৃষ্ণনগর সিটি জংশন সেকশনে দৈনিক ট্রেন পরিষেবা এক জোড়া থেকে বাড়িয়ে দুই জোড়া করা হয়েছে। দিগনগর হল্ট হয়ে শান্তিপুর ও কৃষ্ণনগর সিটি জংশনের মধ্যে এই ট্রেনগুলি চলাচল করবে। নতুন সূচি অনুযায়ী, সকালের আপ ট্রেনটি শান্তিপুর থেকে সকাল ৯টা ৩৪ মিনিটে ছেড়ে ১০টা ৭ মিনিটে কৃষ্ণনগর সিটি জংশনে পৌঁছবে। অন্যদিকে, ডাউন ট্রেনটি কৃষ্ণনগর থেকে সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে ছেড়ে ১০টা ৪৩ মিনিটে শান্তিপুরে ফিরে আসবে।
পাশাপাশি, দেরিতে কর্মস্থল বা শহর থেকে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে শিয়ালদহ–বজবজ (KBGB) শাখায় পরীক্ষামূলক ভাবে গভীর রাতের EMU লোকাল পরিষেবা চালু করা হয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থার ফলে ডাউন ট্রেনটি প্রতিদিন শিয়ালদহ থেকে রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে ছেড়ে রাত ১১টা ৪৩ মিনিটে বজবজ পৌঁছবে। আবার আপ ট্রেনটি বজবজ থেকে রাত ১১টা ৫৪ মিনিটে রওনা দিয়ে গভীর রাতে অর্থাৎ রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে শিয়ালদহ স্টেশনে এসে পৌঁছবে।
এর পাশাপাশি, শিয়ালদহ–কৃষ্ণনগর সিটি জংশন সেকশনের বদকুল্লা স্টেশনে চারটি এসি ইএমইউ (AC EMU) লোকালের পরীক্ষামূলক স্টপেজ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবারের নির্দিষ্ট সময়সূচি বাদে প্রতিদিন ৩১৮৪৫ নম্বর আপ ট্রেনটি বদকুল্লায় সকাল ১১টা ৫৩ মিনিট থেকে ১১টা ৫৪ মিনিট এবং ৩১৮৪৬ নম্বর ডাউন ট্রেনটি দুপুর ১টা ৪০ মিনিট থেকে ১টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত দাঁড়াবে। এছাড়া রবিবারগুলিতে ৩১৮৪৭ নম্বর আপ ট্রেনটি দুপুর ১টা ৫৯ মিনিট থেকে ২টো পর্যন্ত এবং ৩১৮৪৮ নম্বর ডাউন ট্রেনটি বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট থেকে ৪টা ১৬ মিনিট পর্যন্ত বদকুল্লা স্টেশনে যাত্রীদের জন্য উপলব্ধ থাকবে।
শিয়ালদহের ডিআরএম (DRM) রাজীব সাক্সেনা এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, “পরিষেবার এই সংযোজনগুলি—শহরতলির ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট গভীর রাতের যোগাযোগ স্থাপন এবং বদকুল্লায় নতুন এসি ইএমইউ স্টপেজ—দৈনন্দিন যাত্রীদের পরিবর্তিত ও ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখেই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে।” রেলের এই বিশেষ উদ্যোগের ফলে আসন্ন পুজোয় সাধারণ মানুষ আরও স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।