‘পুজোয় যত খুশি রসগোল্লা খান!’ বাংলায় এসে GST-র বড় ঘোষণা নির্মলা সীতারমণের

দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যবাসীকে সুখবর দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। বৃহস্পতিবার কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হতে চলা নতুন প্রজন্মের জিএসটি (GST 2.0)-এর আওতায় দুধ, পনির, দই এবং রসগোল্লার মতো সামগ্রীর ওপর থেকে জিএসটি সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হয়েছে।
নির্মলা সীতারমণ জানান, নতুন জিএসটি কাঠামোতে শুধুমাত্র দুটি স্তর থাকবে, যার সুবিধা বাংলা সহ সারাদেশের মানুষ পাবেন। বাংলায় এসে তিনি মজা করে বলেন, “পুজোয় যত খুশি রসগোল্লা খান, বিক্রি করুন! পনির থেকে সব কর তুলে নেওয়া হয়েছে। পুজো শুরু করুন আনন্দে, হাসিমুখে।” তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে বাংলার পুজোর কথা বিশেষভাবে মাথায় রাখা হয়েছে।
শুধুমাত্র মিষ্টি নয়, বাংলার বিভিন্ন হস্তশিল্প ও কুটির শিল্পের ওপর থেকেও জিএসটি কমানো হয়েছে। যার ফলে ছৌ মুখোশ, কুশমণ্ডীর ক্ষুদ্রশিল্প, বর্ধমানের হস্তশিল্প, নকশিকাঁথার শিল্প, মালদহের আম, দার্জিলিংয়ের চা, চটের ব্যাগ, হোসিয়ারি ও রেডিমেড পোশাক শিল্পের মতো একাধিক জিনিসের ওপর কর কমানো হয়েছে। শান্তিনিকেতনের চর্মশিল্প ও বাঁকুড়ার টেরাকোটা সামগ্রীর দামও এখন ৫ শতাংশ স্তরে নেমে এসেছে।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে অবশ্য কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী আজ যেটাকে সুফল বলছেন, সেটা আসলে আগে ছিল কুফল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাপে কেন্দ্র বাধ্য হয়ে এই পরিবর্তন এনেছে।” কুণাল ঘোষ আরও বলেন, আগে ধনীতম ব্যক্তিরা যে জিনিস ব্যবহার করতেন, সেগুলোর ওপর জিএসটি কম ছিল, অথচ গরিব, মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত মানুষের ব্যবহার্য সামগ্রীতে জিএসটি বেশি ছিল। এমনকি স্বাস্থ্যবিমা ও জীবনবিমার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ১৮% জিএসটি ছিল। তিনি দাবি করেন, এই অন্যায্য জিএসটি কাঠামোর বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই মুখ খুলেছিলেন। তার এবং তৃণমূলের কথাতেই এখন দেশবাসী সচেতন হয়েছে এবং কেন্দ্র এই ভুল সংশোধন করতে বাধ্য হয়েছে।