ইউকে-র ওপর চরম ক্ষুব্ধ ইজরায়েল! জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনসুলেট বন্ধ করার কড়া নির্দেশ নেতানিয়াহু সরকারের!

ওয়েস্ট ব্যাংক বা জর্ডন নদীর পশ্চিম তীর নিয়ে ইজরায়েল ও ব্রিটেনের মধ্যে কূটনৈতিক সংঘাত চরমে উঠেছে। ব্রিটিশ সরকারের কঠোর অবস্থানের পাল্টা জবাব হিসেবে এবার ইজরায়েল জেরুজালেমে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যদূত কার্যালয় বা কনসুলেট (Consulate) বন্ধ করে দেওয়ার বড় ঘোষণা করেছে। দুই দেশের এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন এখন আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

ঠিক কী নিয়ে শুরু হয়েছে এই বিরোধ?

সম্প্রতি ব্রিটিশ বিদেশমন্ত্রী এডওয়ার্ড মিলিব্যান্ড দেশটির সংসদে দাঁড়িয়ে ইজরায়েলের দখলকৃত পশ্চিম তীরের বসতিগুলি থেকে সমস্ত ধরনের আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির কথা ঘোষণা করেন। শুধু তাই নয়, তিনি জানান যে ফ্রান্স এবং কানাডার মতো দেশগুলিও একই পথে হাঁটতে পারে। এই সিদ্ধান্তের পরেই বেজায় চতে ওঠে ইজরায়েল। এর ফলস্বরূপ, ইজরায়েলের বিদেশমন্ত্রী জেরুজালেমে থাকা যুক্তরাজ্যের কনসুলেটটি চিরতরে বন্ধ করার এই কঠোর পদক্ষেপ নেন।

এম্বাসি ও কনসুলেটের মধ্যে মূল পার্থক্য কোথায়?

সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রায়শই এম্বাসি (दूतावास) এবং কনসুলেট (वाणिज्य दूतावास) নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। আপাতদৃষ্টিতে উভয়কেই এক মনে হলেও, এদের কাজ, ক্ষমতা এবং দায়দায়িত্বে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে।

  • এম্বাসি বা রাজদূতাবাস: এটি সাধারণত যেকোনো দেশের রাজধানী শহরে অবস্থিত প্রধান ও সর্বোচ্চ কূটনৈতিক মিশন। যেমন—আমেরিকার ওয়াশিংটন ডি সি-তে রয়েছে ভারতের এম্বাসি। এম্বাসির প্রধানকে বলা হয় ‘রাষ্ট্রদূত’ (Ambassador), যিনি সরাসরি নিজ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বিশেষ কূটনৈতিক সুরক্ষাও পেয়ে থাকেন।

  • কনসুলেট বা বাণিজ্যদূত কার্যালয়: এটি মূলত এম্বাসিরই একটি শাখা অফিস, যা সাধারণত রাজধানী ছাড়াও দেশের অন্যান্য বড় বড় বাণিজ্যিক বা জনবহুল শহরে খোলা হয়। কনসুলেটের প্রধানকে বলা হয় ‘কনসাল জেনারেল’ বা ‘কনসাল’। এগুলির মূল কাজ সাধারণ নাগরিকদের বিভিন্ন পরিষেবা দেওয়া, যেমন—ভিসা ইস্যু করা, পাসপোর্ট সংক্রান্ত কাজ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বিদেশে বিপদে পড়া নাগরিকদের সাহায্য করা।

বর্তমানে ইজরায়েল ও ব্রিটেনের এই কূটনৈতিক সংঘাতের জেরে কনসুলেটের ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এই তফাতগুলো আরও একবার আলোচনার টেবিলে উঠে এসেছে।