পিপিএফে ১.৫ লাখ টাকা জমানোর এই ছোট্ট ভুলটি করছেন না তো? লাখ লাখ টাকার ফায়দা তুলতে কোন নিয়ম মানতেই হবে?

পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিপিএফ (PPF)-এ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সামান্য কৌশলেই মিলতে পারে লক্ষ লক্ষ টাকার অতিরিক্ত রিটার্ন। অনেকেই জানেন না যে, একসঙ্গে ১.৫ লাখ টাকা জমা করা আর প্রতি মাসে কিস্তিতে টাকা জমানোর মধ্যে সুদের অঙ্কে বিরাট ফারাক গড়ে ওঠে। সঠিক নিয়মে বিনিয়োগ না করলে বড় অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়তে হতে পারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের।
বর্তমানে সরকার পিপিএফে ৭.১ শতাংশ হারে চক্রবৃদ্ধি সুদ দিচ্ছে। পিপিএফে সুদের হিসেব প্রতি মাসে হলেও তা মূলত মাসের ৫ তারিখ এবং মাসের শেষ তারিখের মধ্যকার সর্বনিম্ন ব্যালেন্সের ওপর ভিত্তি করে ধার্য করা হয়। এই নিয়মের জন্যই আর্থিক বছরে বিনিয়োগের পদ্ধতি পুরো রিটার্নের হিসেব পাল্টে দেয়।
বিনিয়োগের হিসাব ও তফাত
এককালীন বিনিয়োগ: অর্থবর্ষের শুরুতে অর্থাৎ প্রতি বছর ৫ এপ্রিলের মধ্যে যদি একসঙ্গে ১.৫ লাখ টাকা জমা করে দেওয়া হয়, তবে পুরো বছরের সুদ পাওয়া নিশ্চিত হয়। ৭.১ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি সুদের হারে ১৫ বছরে এই জমানো টাকা গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ৪০.৭ লাখ টাকায়।
ষাণ্মাসিক জমা: যদি প্রতি ৬ মাস অন্তর ৭৫,০০০ টাকা করে বছরে মোট ১.৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়, তবে ১৫ বছর শেষে সুদ সমেত তহবিল দাঁড়াবে প্রায় ৪০.১ লাখ টাকায়।
ত্রৈমাসিক জমা: প্রতি তিন মাস অন্তর ৩৭,৫০০ টাকা করে জমা করলে ১৫ বছর পর মোট রিটার্ন আসবে প্রায় ৩৯.৮ লাখ টাকা।
মাসিক জমা: যদি প্রতি মাসে ১২,৫০০ টাকা করে বছরে ১.৫ লাখ টাকা জমানো হয়, তবে ১৫ বছর শেষে তা দাঁড়াবে প্রায় ৩৯৫ লাখ বা ৩৯.৫ লাখ টাকায়।
সবকটি ক্ষেত্রেই ১৫ বছরে বিনিয়োগকারীর মোট বিনিয়োগের পরিমাণ সমান (২২.৫ লাখ টাকা) থাকলেও, কেবল টাকা জমা দেওয়ার সময় এবং সঠিক কৌশলই তহবিলের অঙ্ক অনেকটাই বাড়িয়ে বা কমিয়ে দেয়। তাই পিপিএফ থেকে সর্বাধিক লাভ তুলতে বছরের শুরুতেই টাকা বিনিয়োগ করা বুদ্ধিমানের কাজ।