পিওকের আন্দোলন ও সেনার অত্যাচার লুকাতে নয়া ফন্দি! বিদেশি গণমাধ্যমের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ পাকিস্তানের

পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) চলা ব্যাপক জনরোষ, সাধারণ মানুষের ওপর সামরিক বাহিনীর দমনপীড়ন এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের বাস্তব চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে আসা আটকাতে এবার চরম পদক্ষেপ করল পাকিস্তান সরকার। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কর্মরত বিদেশি সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করে একটি নতুন অনাপত্তি সনদ বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) নীতি চালু করেছে ইসলামাবাদ।
নতুন নিয়মে কী বলা হয়েছে? নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থায় কর্মরত কোনো বিদেশি সাংবাদিক এখন থেকে ইসলামাবাদ, লাহোর ও করাচির মতো নির্দিষ্ট শহরের বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ করতে পারবেন না। দেশের সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে যেতে হলে বা সেখান থেকে কোনো প্রতিবেদন তৈরি করতে হলে আগে বাধ্যতামূলকভাবে এনওসি (NOC) নিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK), বেলুচিস্তান এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর অঞ্চল থেকে স্বাধীন সাংবাদিকতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং পাকিস্তান তার জঘন্য কার্যকলাপ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো সহজে ধামাচাপা দিতে পারবে।
কেন হঠাৎ এই কড়াকড়ি? সম্প্রতি পিওকে অঞ্চলে চরম মুদ্রাস্ফীতি, প্রশাসনিক চরম অব্যবস্থাপনা, নির্বাচন ও নিরাপত্তা বাহিনীর হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ব্যাপক গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলি যখন এই আন্দোলনের চিত্র একের পর এক বিশ্বের সামনে তুলে ধরছে, তখনই নড়েচড়ে বসে পাক সরকার। এর আগে প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’ (Al Jazeera) পিওকের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও নির্বাচন নিয়ে একাধিক গ্রাউন্ড রিপোর্ট সম্প্রচার করেছিল। এর পরেই পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক আল জাজিরার বিরুদ্ধে ‘পক্ষপাতদুষ্ট রিপোর্টিং’-এর অভিযোগ আনে এবং পাকিস্তানে তাদের ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল প্রবেশাধিকার অবরুদ্ধ করে দেয়।
গণমাধ্যম ও মানবাধিকার মহলের তীব্র সমালোচনা: পাকিস্তানের এই সেন্সরশিপ নীতিকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, ঘটনাস্থল থেকে বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা সাংবাদিকদের মৌলিক অধিকার, যা নস্যাৎ করতে চাইছে ইসলামাবাদ। অন্যদিকে, পাকিস্তান সরকারের সাফাই—নিরাপত্তা এবং সংবেদনশীল এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের মতে, পিওকে-র বর্তমান স্বৈরাচারী পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বর দমনের যে চিত্র বিশ্বমঞ্চে ফাঁস হয়ে পড়ছে, তা থেকেই দেশের আসল সত্য আড়াল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে পাকিস্তান।