পিএম কিষাণ সম্মান নিধির ২৪তম কিস্তির ২,০০০ টাকা পেতে ঝটপট সারুন এই ৩টি কাজ! নয়তো অ্যাকাউন্ট ফাঁকাই থেকে যাবে

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দেশের ছোট ও প্রান্তিক চাষিদের আর্থিক সুরক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি যোজনা অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য কৃষকদের বছরে ৬,০০০ টাকা আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হয়। নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, এই টাকা প্রতি চার মাস অন্তর ২,০০০ টাকা করে তিনটি পৃথক কিস্তিতে সরাসরি সুবিধাভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই সফলভাবে ২৩টি কিস্তির অর্থ কৃষকদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বিগত বছরের জুন মাসে ২৩তম কিস্তির টাকা বিতরণ করা হয়েছিল। সেই হিসাব অনুযায়ী, ২৪তম কিস্তির ২,০০০ টাকা সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হতে পারে বলে জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
প্রকল্পের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রকৃত যোগ্য কৃষকদের কাছে সঠিক সময়ে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে কেন্দ্র সরকার নিয়মাবলীতে বেশ কিছু কড়াকড়ি এনেছে। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন না করলে আপনার প্রাপ্য ২৪তম কিস্তির ২,০০০ টাকা আটকে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই তিনটি কাজ এখনই সম্পূর্ণ করুন: প্রথমত, ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা বাধ্যতামূলক। নিকটবর্তী সিএসসি সেন্টারে গিয়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে অথবা নিজের মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে ওটিপি ব্যবহার করে খুব সহজেই অনলাইনে এই কাজটি সেরে ফেলা সম্ভব। দ্বিতীয়ত, আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে আধার কার্ড লিঙ্ক থাকতে হবে এবং ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার অপশনটি সক্রিয় রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, জমির রেকর্ড যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। পিএম কিষাণ পোর্টালে আপনার জমির বিবরণ সঠিকভাবে নথিভুক্ত এবং সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ দ্বারা যাচাই করা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে।
আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২৪তম কিস্তির টাকা সফলভাবে জমা হবে কিনা, তা আপনি খুব সহজেই ঘরে বসে অনলাইনে যাচাই করে নিতে পারেন। এজন্য প্রথমে পিএম কিষাণের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। হোমপেজে থাকা ‘নো ইওর স্ট্যাটাস’ অপশনে ক্লিক করে আপনার নির্দিষ্ট রেজিস্ট্রেশন নম্বর বা পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করতে হবে। যদি আপনার ই-কেওয়াইসি এবং ল্যান্ড সিডিং সংক্রান্ত স্ট্যাটাস ‘ইয়েস’ বা হ্যাঁ দেখায়, তবে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পরবর্তী কিস্তির টাকা আসার ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না। অনেক সময় কৃষকরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করেন এবং ছোটখাটো প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে কাঙ্ক্ষিত আর্থিক সহায়তা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন। আধার কার্ডের বিবরণে বানান ভুল থাকা বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় থাকার মতো সাধারণ কারণেও টাকা আটকে যেতে পারে। তাই ২৪তম কিস্তির টাকা হস্তান্তরের আগেই আপনার সমস্ত তথ্য নির্ভুল আছে কিনা তা যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রাজ্য সরকারগুলির দ্বারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা যোগ্য কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পরবর্তী কিস্তির টাকা দ্রুত গতিতে জমা করা হবে।
দেশজুড়ে কোটি কোটি অন্নদাতা কৃষক দীর্ঘদিন ধরে আশা করে বসেছিলেন যে পিএম কিষাণ সম্মান নিধি যোজনার বাৎসরিক অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার লোকসভার ফ্লোরে পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, এই মুহূর্তে বার্ষিক ৬,০০০ টাকার অনুদান বাড়ানোর কোনো ধরনের প্রস্তাব সরকারের বিবেচনায় নেই। কেরালার বিশিষ্ট কংগ্রেস সাংসদ বেনি বেহানান এবং সিপিআই সাংসদ কে. রাধাকৃষ্ণণের আনীত স্টারযুক্ত প্রশ্নের লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এই তথ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন। ফলে আপাতত পূর্বনির্ধারিত নিয়ম ও পরিমাণ অনুসারেই কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ত্রৈমাসিক কিস্তির অর্থ পাঠানো অব্যাহত থাকবে।