দেশের কোটি কোটি এলপিজি (LPG) গ্রাহকদের জন্য অত্যন্ত জরুরি বার্তা জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। আপনি যদি পিএনজি (PNG) অর্থাৎ পাইপড ন্যাচারাল গ্যাসের সুবিধা গ্রহণকারী গ্রাহক হন, তবে আপনার জন্য এই খবরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো গ্রাহকই একসঙ্গে এলপিজি এবং পিএনজি—উভয় পরিষেবা ব্যবহার করতে পারবেন না। সরকারের এই কঠোর সিদ্ধান্তের ফলে যারা ইতিমধ্যে পিএনজি সংযোগ নিয়েছেন, তাদের অতি দ্রুত এলপিজি সিলিন্ডার সারেন্ডার করতে হবে।
কেন নেওয়া হলো এই সিদ্ধান্ত?
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সংকট, বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার ফলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভারত সরকার তাদের জ্বালানি ব্যবহারের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে চাইছে। কেন্দ্রের লক্ষ্য হলো, যে সমস্ত এলাকায় পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস বা পিএনজি পরিষেবা পৌঁছে গেছে, সেখানে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করা এবং এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পিএনজির ব্যবহার বৃদ্ধি করা।
সময়সীমা এবং নিয়মাবলী
কেন্দ্রের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, যে সমস্ত গ্রাহকের বাড়িতে ইতিমধ্যে পিএনজি পরিষেবা সক্রিয় রয়েছে, তাদের এলপিজি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, যেসব এলাকায় পিএনজি সংযোগ রয়েছে, সেখানে বসবাসকারী গ্রাহকদের আগামী ৩০ জুনের মধ্যে তাদের এলপিজি সিলিন্ডার সারেন্ডার করতে হবে। ২৫ মে-র পর থেকে যারা পিএনজি পরিষেবা পাচ্ছেন, তাদের জন্য এই নিয়ম আরও কঠোর—পিএনজি সংযোগ পাওয়ার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যেই এলপিজি সার্ভিস বন্ধ করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে সংযোগ বাতিল না করলে পরবর্তী পর্যায়ে ওই গ্রাহকের এলপিজি সরবরাহ বা সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হতে পারে।
পরিসংখ্যান কী বলছে?
বর্তমানে ভারতে এলপিজি গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩৩.৩ কোটি এবং পিএনজি গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১.৬ কোটি। সরকার এই দুই গ্যাস সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছে। যেসব এলাকায় পিএনজি সরবরাহ পৌঁছে গেছে, সেখানে গৃহস্থালির ক্ষেত্রে পিএনজি ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এটি একদিকে যেমন জ্বালানির সাশ্রয় করবে, অন্যদিকে সিলিন্ডার বহনের ঝামেলা কমিয়ে রান্নার কাজকে আরও সহজ ও নিরাপদ করবে।
তাই দেরি না করে, আপনি যদি পিএনজি গ্রাহক হন এবং আপনার ঘরে এখনও এলপিজি সিলিন্ডার থাকে, তবে অবিলম্বে আপনার নিকটস্থ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর বা সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী সংস্থার সাথে যোগাযোগ করুন। ৩০ জুনের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সম্ভাব্য আইনি বা প্রযুক্তিগত ঝামেলা থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন।





