পিংলায় পাক চরবৃত্তির ভয়ঙ্কর জাল! তদন্তে সরাসরি নামল এনআইএ (NIA), কড়া নজরে কেন্দ্রীয় এজেন্সি

পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায় পাকিস্তানের পক্ষে চরবৃত্তির চাঞ্চল্যকর অভিযোগে এক ব্যক্তির গ্রেফতারির পর এবার গোটা মামলার তদন্তভার নিজের হাতে তুলে নিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)। গত ২৭ মে গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা বেঙ্গল এসটিএফ (West Bengal STF)-এর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল অভিযুক্ত শেখ মুসালিম। প্রাথমিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে ভিনদেশি শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দেশের সংবেদনশীল তথ্য পাচার করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে। এই ঘটনার পরেই রাজ্য জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও সুরক্ষাজনিত উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ধৃত শেখ মুসালিম দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে পিংলা এলাকার বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করছিল এবং তা পাকিস্তান ভিত্তিক সন্দেহভাজন হ্যান্ডলারদের কাছে পাচার করছিল বলে অভিযোগ। রাজ্য এসটিএফ এই মামলার তদন্ত শুরু করার পর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্রমাণ ও চাঞ্চল্যকর নথিপত্র হাতে পায়। ঘটনার গুরুত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধের যোগসূত্র জোরালোভাবে সামনে আসায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী এই মামলার তদন্তভার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-এর হাতে হস্তান্তরিত করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলার মতো সীমান্তবর্তী বা সংবেদনশীল অঞ্চলের অন্দরে বসে এ ধরনের নাশকতামূলক বা গুপ্তচরবৃত্তির কর্মকাণ্ড দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বড়সড় চ্যালেঞ্জ। এর আগে বেশ কয়েকটি ঘটনায় দেখা গেছে যে, জাতীয় স্তরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি তদন্তভার গ্রহণ করার পর একাধিক গভীরে লুকিয়ে থাকা আন্তর্জাতিক যোগসূত্র ও নেটওয়ার্কের সন্ধান মেলে। এনআইএ-এর দক্ষ ও অভিজ্ঞ আধিকারিকরা এখন এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল চক্রী, অন্যান্য স্থানীয় সহযোগী এবং আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগের সঠিক উৎস সন্ধানে জোরদার তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন। আগামী দিনে এই মামলার তদন্তে আরও বড় কোনো চাঞ্চল্যকর তথ্য বা একাধিক নতুন গ্রেফতারির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা।