বাড়ির কাজ নিমেষে করে দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তবে কি চাকরি হারাচ্ছেন শিক্ষকরা?

শিক্ষার দুনিয়া কি তবে পুরোপুরি বদলে যাচ্ছে? সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী অনন্যা তার বাড়ির কাজ নিমেষে শেষ করতে এআই-এর সাহায্য নেয়। আজকালকার দিনে কঠিন কোনো ধারণার সমাধান হোক বা কেরিয়ারের দিশা—সবকিছুর জন্যই শিক্ষার্থীরা এক ক্লিকে ভরসা রাখছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর। সিবিএসই বোর্ড ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং কম্পিউটেশনাল থিংকিংয়ের সিলেবাস চালু করায় এই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে যে, এআই-এর এই যুগে কি তবে শিক্ষকদের আর কোনো প্রয়োজন নেই?

আসলে গুগলের মতো সংস্থাগুলি শিক্ষকদের জন্য এআই প্রশিক্ষণ সেশন চালু করেছে যাতে তাঁরা আরও সহজে পড়াতে পারেন। তথ্য বা উদাহরণের অভাব আজ আর নেই, কিন্তু শিক্ষা মানে কেবল কিছু তথ্যের সমাহার নয়। শিক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৯৮ লক্ষ শিক্ষক রয়েছেন, যাঁরা কেবল বইয়ের পাঠ দেন না, বরং ছাত্রছাত্রীদের জীবনে পথপ্রদর্শক বা মেন্টরের ভূমিকা পালন করেন। এসভি বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা অনুরাধা জোশীর মতে, প্রত্যেক শিশুর মধ্যেই প্রতিভা থাকে এবং একজন ভালো শিক্ষক সেই সুপ্ত প্রতিভাকে সঠিক দিশা দেখান।

গুরু-শিষ্য পরম্পরার রূপ বদলালেও শিক্ষকের গুরুত্ব কোনো দিনই ফুরোবে না। এআই কেবল একজন ভালো সহকারী হতে পারে, কিন্তু কোনটা সঠিক পথ আর কোন তথ্যে বিশ্বাস রাখতে হবে, তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব মানুষেরই। তাই সীমিত সম্পদের মাঝেও শিক্ষকরা যেভাবে পড়ুয়াদের অনুপ্রাণিত করে চলেছেন, সেটাই এআই যুগে প্রকৃত গুরুর নতুন সংজ্ঞা।