বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ল যশের ‘টক্সিক’! ইংরেজি ভার্সন রিলিজ করতেই তৈরি হলো লজ্জাজনক রেকর্ড!

‘কেজিএফ’ খ্যাত দক্ষিণ ভারতীয় সুপারস্টার যশের নতুন ছবি মানেই প্রেক্ষাগৃহে তুফান এবং বক্স অফিসে কোটি টাকার সুনামি। কিন্তু তাঁর বহুল আলোচিত ও সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘টক্সিক’-এর ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ বিপরীত। গত ২৬ আগস্ট কন্নড় ভাষার পাশাপাশি হিন্দি, তামিল, তেলুগু ও মালায়লাম ভাষায় মুক্তি পেয়েছিল গীতু মোহনদাস পরিচালিত এই ছবি। যদিও প্রথম দিনে বিশ্বজুড়ে ১০১ কোটি টাকারও বেশি রেকর্ড ব্যবসা করেছিল এই মেগা প্রজেক্ট, তবে নেতিবাচক ‘ওয়ার্ড অব মাউথ’ বা মুখে মুখে প্রচারের কারণে মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে বড়সড় ধাক্কা খেতে শুরু করে যশের এই ছবি।
উচ্চবিত্ত ও আন্তর্জাতিক দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে টানতে এবং ছবির ব্যবসার পড়তি দশা সামাল দিতে গত ৪ সেপ্টেম্বর ছবিটির একটি বিশেষ ‘ইংরেজি ভার্সন’ বা ‘অল্টারনেট কাট’ মুক্তি দেয় প্রযোজনা সংস্থা। কিন্তু সেই উদ্যোগেও কোনো সুফল মিলল না, বরং সিনেমার ঝুলিতে এসে জমা হলো এক লজ্জাজনক রেকর্ড। ট্রেড অ্যানালিস্টদের রিপোর্ট অনুযায়ী, মুক্তির প্রথম দিনে সারা ভারতে ছবিটির ইংরেজি সংস্করণটি মাত্র ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার ব্যবসা করেছে। গোটা দেশজুড়ে প্রথম দিনে এই সংস্করণের সবমিলিয়ে মাত্র ৪৫০টির মতো টিকিট বিক্রি হয়েছে।
সাধারণ বাণিজ্যিক সিনেমার মতো এই ভার্সনটিকে কোনো বিশাল রিলিজ দেওয়া হয়নি। দেশের মাত্র ৪টি প্রধান শহর—মুম্বই, বেঙ্গালুরু, গুরগাঁও এবং নয়ডার মোট ১১টি শো-তে সিনেমাটি চালানো হয়েছিল। মুম্বই ও বেঙ্গালুরুতে সামান্য কিছু দর্শক প্রেক্ষাগৃহে পৌঁছালেও, গুরগাঁও ও নয়ডার মতো শহরে সারা দিনে ২৫টিরও কম টিকিট বিক্রি হয়েছে। কিয়ারা আডবাণী, নয়নতারা, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া এবং রুক্মিণী বসন্তের মতো একঝাঁক প্রথম সারির তারকা থাকা সত্ত্বেও বক্স অফিসে ধুঁকছে ‘টক্সিক’। ছবিতে অতিরিক্ত হিংসাত্মক দৃশ্য এবং নারী চরিত্রের উপস্থাপন নিয়ে সাধারণ দর্শকদের মনে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, যা ছবির জন্য মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া, ছবিটির প্রচার প্রথম সপ্তাহের বক্স অফিস বিপর্যয়ের পরই গুটিয়ে নেওয়া হয়েছিল। চলতি সপ্তাহে নতুন ছবির ভিড়ে প্রতিযোগিতা আরও বাড়ায় ইংরেজি সংস্করণের শো সংখ্যা আরও কমার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ইংরেজি ভার্সনের লাইফটাইম কালেকশন ১০ লক্ষ টাকার গণ্ডি পার করতেও হিমশিম খাবে। সবমিলিয়ে, ‘টক্সিক’ সুপারস্টার যশের বর্ণময় ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক ব্যর্থতা হিসেবেই চিহ্নিত হতে চলেছে।