পাহাড়ি ভূত! বরফের খাঁজে থাকা সেই ‘স্নো লেপার্ড’-এর সংখ্যাবৃদ্ধি, মাত্র ৪ বছরে কতজন বাড়ল জানেন?

বরফের রাজ্যে তাদের ঘোরাফেরা। দুর্গম হিমালয়ের বরফ ঢাকা ঢালে, পাহাড়ের খাঁজে এদের বসবাস। এদের বলা হয় ‘ঘোস্ট অফ দ্যা মাউন্টেন’ বা পাহাড়ি ভূত (Ghost of the Mountain)। কারণ এদের দেখা পাওয়া এতটাই বিরল যে, সারা জীবনে একবারের জন্যও মানুষের নজরে না আসার সম্ভাবনাই বেশি। সেই অতি বিরল প্রাণী, স্নো লেপার্ড বা তুষার চিতাবাঘের (Snow Leopard) সংখ্যাবৃদ্ধি হয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে, যা পশুপ্রেমীদের কাছে নিঃসন্দেহে এক দারুণ আনন্দের খবর।

৪ বছরে ৩২টি বৃদ্ধি
সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, ট্রান্স হিমালয়ান বাস্তুতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই তুষার চিতাবাঘ। শেষবার ২০২১ সালে এদের সংখ্যা গণনা করে দেখা গিয়েছিল, এদের মোট সংখ্যা ছিল মাত্র ৫১টি। কিন্তু মাত্র চার বছরে এই অতি বিরল প্রাণীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে এদের সংখ্যা ৮৩ জনে পৌঁছেছে।

কেন এদের ‘পাহাড়ি ভূত’ বলা হয়?
তুষার চিতাবাঘদের দেখা মেলা কঠিন হওয়ার একাধিক কারণ রয়েছে। এক তো পাহাড়ের অনেক উঁচুতে এদের বাস। অতি দুর্গম পাহাড়ের বরফ ঢাকা জায়গা এদের প্রিয়। তার ওপর এরা বড় একটা মানুষের গোচরে আসতে পছন্দ করে না, নিজেদের মতো করে একাকী জীবন কাটায়। এই কারণে এরা প্রায় অদৃশ্য থাকে, তাই এদের ‘পাহাড়ি ভূত’ নামে ডাকা হয়।

ট্রান্স হিমালয়ান বাস্তুতন্ত্রে প্রায় ২৬ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়েই এদের বসবাস। তবে এদের সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় লাহুল স্পিতি জেলার বরফ ঢাকা পাহাড়ি এলাকায়। এই সংখ্যা বৃদ্ধি প্রমাণ করে, বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় ভারত সরকার ও পরিবেশকর্মীদের প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। অতি দুর্লভ এই প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধি বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের মনে বড় আশা জাগিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy