পালাবদল হতেই বাংলাদেশে পালানোর হিড়িক! অনুপ্রবেশকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন দিলীপ ঘোষ

রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পরপরই সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে শুরু হয়েছে চরম চাঞ্চল্য। স্বরূপনগরের হাকিমপুর চেকপোস্টে গত কয়েকদিন ধরে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের অস্বাভাবিক ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজ্যে ক্ষমতার সমীকরণ বদল হতেই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য একপ্রকার হিড়িক পড়ে গিয়েছে এই অবৈধদের মধ্যে। এই পরিস্থিতিতে কঠোর অবস্থান নিলেন বিজেপির প্রবীণ নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সীমান্ত পরিদর্শনে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, এই ধরনের প্রচেষ্টা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

মঙ্গলবার হাকিমপুর চেকপোস্ট এলাকা পরিদর্শনে যান দিলীপ ঘোষ। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি রাজ্যের বর্তমান সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং গোয়েন্দা সূত্রের খবরের ভিত্তিতে জানা যায়, রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হতেই এতদিন ধরে গা-ঢাকা দিয়ে থাকা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।

এদিন দিলীপ ঘোষ সরাসরি হুংকার দিয়ে বলেন, “রাজ্যে পালাবদল হতেই যারা ভয়ে সীমান্ত দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছে, তারা জেনে রাখুক—পশ্চিমবঙ্গ এখন আর নিরাপদ করিডোর নয়। গত কয়েক বছরে যারা অবৈধভাবে এদেশে প্রবেশ করে এখানে আস্তানা গেড়েছিল, তাদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে আইন তার নিজস্ব গতিতে ব্যবস্থা নেবে। পালানোর চেষ্টা করে কোনো লাভ হবে না, ধরা পড়লে কপালে দুঃখ আছে।”

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফ এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দিলীপ ঘোষের কথায়, বিগত দিনে রাজ্যে অনুপ্রবেশের যে অবাধ সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা এখন আর নেই। তিনি অভিযোগ করেন যে, এতদিন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মদতে এই অনুপ্রবেশকারীরা এরাজ্যে আশ্রয় পেয়েছিল। কিন্তু এখন সেই মদত উঠে যাওয়ায় তারা আতঙ্কিত।

দিলীপ ঘোষের এই কড়া বার্তায় সীমান্তবর্তী এলাকায় জল্পনা তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। তার প্রভাব যে শুধুমাত্র আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, বরং সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রেও পড়ছে, তা দিলীপ ঘোষের আজকের মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট। একদিকে যখন অনুপ্রবেশকারীরা ভয়ে পালাচ্ছে, অন্যদিকে বিজেপির দাবি—এদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিন সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে দিলীপ ঘোষ বলেন, “দেশের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। স্বরূপনগর থেকে শুরু করে সীমান্তবর্তী প্রতিটি পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কেউ যদি মনে করে রাতের অন্ধকারে নদীপথ বা কাঁটাতার পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়বে, তবে তারা ভুল ভাবছে। কড়া নজরদারিতে তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ ধরা পড়ছে।”

দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়েছে রাজনীতির ময়দান। বিরোধী শিবির অবশ্য এই মন্তব্যকে ‘ভীতি প্রদর্শনের কৌশল’ হিসেবেই দেখছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ সমস্যা সমাধানে এই কঠোর অবস্থান জরুরি। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি এই অনুপ্রবেশ রুখতে কতটা কার্যকর ভূমিকা নেয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy