রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই প্রথম পাহাড়ের মাটিতে পা রাখতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকার গঠনের মাত্র এক মাসের মধ্যেই তাঁর এই ঝটিকা সফর ঘিরে দার্জিলিং ও কার্শিয়াং জুড়ে এখন চরম উদ্দীপনা। পাহাড়ে নতুন সরকারের প্রতি আস্থা ফেরাতে এবং উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করতে মুখ্যমন্ত্রী এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
মঙ্গলবার এক দিনের এই ঝটিকা সফরের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রীর গন্তব্য কার্শিয়াংয়ের ঐতিহাসিক গোথেলস মেমোরিয়াল স্কুল। সেখানে আয়োজিত একটি জনকল্যাণ শিবির পরিদর্শন করবেন তিনি। মূলত রাজ্য সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলো সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সঠিক সময়ে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা স্বচক্ষে খতিয়ে দেখাই এই পরিদর্শনের প্রধান উদ্দেশ্য। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এদিন শিবিরে উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের অভাব-অভিযোগ শুনবেন মুখ্যমন্ত্রী। পাহাড়ের প্রান্তিক মানুষের সমস্যার কথা শুনে তিনি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিতে পারেন বলেও জানা যাচ্ছে।
জনকল্যাণ শিবির পরিদর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রীর মূল গন্তব্য কার্শিয়াংয়ের মন্টিভিট ময়দান। সেখানে এক বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম পাহাড় সফর। তাই এই সভা ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে প্রবল উৎসাহ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। মন্টিভিট ময়দানে মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়নের বিষয়ে কোনো বড় বার্তা পাওয়া যায় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আপামর পাহাড়বাসী। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এদিন সকাল থেকেই ময়দান জনসমুদ্রে পরিণত হবে।
মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। পাহাড়ের ঐতিহ্যের সাথে তাল মিলিয়ে মঞ্চ সাজানো হয়েছে। মন্টিভিট ময়দানের সেই মূল মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা জানাবেন দার্জিলিং লোকসভার সাংসদ রাজু বিস্তা এবং পাহাড়ের অন্যান্য বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধিরা। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান পাহাড়ের উন্নয়নের লক্ষ্যে এক নতুন ঐক্যের বার্তা দিতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ক্ষমতায় আসার এত অল্প সময়ের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর পাহাড় সফর উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়ন ও শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে নতুন সরকারের দায়বদ্ধতাকেই প্রমাণ করে। পাহাড়ের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে উত্তরবঙ্গের রাজনীতির মোড় ঘোরানো মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আর নতুন ভোরের আশায় আজ কার্শিয়াংয়ের পথে তাকিয়ে গোটা পাহাড়।





