পালাবদলের পরেই অ্যাকশন! ক্যানিং থেকে নবগ্রাম— পুলিশের জালে তৃণমূলের তিন হেভিওয়েট ‘দাদাগিরি’ শেষ?

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার জেলায় জেলায় শুরু হয়েছে ‘ক্লিনআপ ড্রাইভ’। দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে মুর্শিদাবাদ— পুলিশের জালে ধরা পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের তিন প্রভাবশালী নেতা। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ের জীবনতলা এলাকার দেউলি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হাফিজুল মোল্লা, তাঁর সহযোগী শাহজাহান মোল্লা এবং মুর্শিদাবাদের নবগ্রামের ব্লক তৃণমূল সভাপতি মহম্মদ এনায়েত উল্লাহ। এই জোড়া গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে গোটা রাজ্যে রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে।
ক্যানিংয়ে হাফিজুলের ‘স্টিম রোলার’ এবার নিজের দিকেই!
দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থানার পুলিশ শুক্রবার রাতে এক বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার করে দাপুটে নেতা হাফিজুল মোল্লাকে। ভাঙড়ের এক বাসিন্দার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, হাফিজুল ও তাঁর দলবল তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে। পুলিশ ধৃতদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা (Attempt to Murder), বেআইনি অস্ত্র রাখা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে হামলাসহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের সময় হাফিজুল মোল্লা প্রকাশ্য জনসভায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “ভোটের ফলের পর বিরোধীদের ওপর স্টিম রোলার চালানো হবে।” তাঁর সেই মন্তব্য ভাইরাল হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে আগেও একবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। স্থানীয়দের দাবি, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পরেই হাফিজুলের মতো নেতাদের আর প্রশ্রয় দিচ্ছে না প্রশাসন।
পুরনো খুনের মামলায় মুর্শিদাবাদে গ্রেফতার এনায়েত উল্লাহ:
অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের নবগ্রামের ব্লক তৃণমূল সভাপতি মহম্মদ এনায়েত উল্লাহর গ্রেফতারি আরও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২৩ সালে এক যুবককে গুলি করে খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন এই এনায়েত উল্লাহ। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ ও অস্ত্র আইনে মামলা থাকলেও, স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল যে শাসকদলের ‘প্রভাব’ খাটিয়ে এতদিন তিনি পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গঠন হতেই পুলিশ সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং গতকাল রাতে তাঁকে পাকড়াও করে।
বিরোধী শিবিরের দাবি, এই গ্রেফতারিগুলি কেবল শুরু। দুর্নীতির সাথে যুক্ত এবং আইন হাতে তুলে নেওয়া কোনও বাহুবলীকেই রেয়াত করা হবে না। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই তাঁদের নেতাদের ফাঁসানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে, হাফিজুল ও এনায়েত উল্লাহর গ্রেফতারি এখন বাংলার রাজনীতির প্রধান চর্চার বিষয়।