বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তে নেমে বড় সাফল্য পেল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। অবশেষে এনআইএ-র জালে ধরা পড়লেন শওকত মোল্লা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার সোনারপুরের কামালগাছি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এনআইএ সূত্রে খবর, তদন্তের চাপ বাড়তেই দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালানোর ছক কষছিলেন শওকত। এমনকি, সীমান্তবর্তী রুটগুলো নিয়েও তিনি খোঁজখবর শুরু করেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। গ্রেপ্তারের পরপরই তাঁকে সরাসরি এনআইএ অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। আজ, শনিবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে।
শওকতের গ্রেফতারি নিশ্চিত করতে অত্যন্ত কৌশলী ভূমিকা নিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। ধৃতের তিনটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছেন এনআইএ আধিকারিকরা। এই মোবাইলগুলো ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, বিস্ফোরণ পরবর্তী সময়ে শওকত কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, সেই নেটওয়ার্কের হদিশ পাওয়া। গোয়েন্দাদের দাবি, ঘটনার পর শওকত তাঁর এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির মাধ্যমে আগাম জামিনের আবেদন করার পরিকল্পনা করেছিলেন। এই ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির মোবাইলের সূত্র ধরেই শেষ পর্যন্ত শওকতকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়েছে।
এর আগে গত ৪ জুন ভোরে শওকতের বাড়িতে হানা দিয়েছিলেন এনআইএ আধিকারিকরা। তবে তখন বাড়িতে তালা ঝুলতে দেখে খালি হাতে ফিরতে হয় তাঁদের। এরপর শওকতের কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয় এবং তাঁর ছেলে, স্ত্রী ও মেয়েকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটকও করা হয়েছিল, তবে সন্ধ্যায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এদিকে, শওকতের গ্রেফতারির পর তাঁর মেয়ের দাবি, “বাবাকে গ্রেফতার করা হয়নি, তিনি নিজেই আত্মসমর্পণ করেছেন।” যদিও তদন্তকারী সংস্থার তরফে এই দাবি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
তদন্তকারীদের মতে, বিস্ফোরণের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল এই মামলায় শওকতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনার পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি আত্মগোপন করেন, যার ফলে তাঁকে ধরতে রীতিমতো বেগ পেতে হয় এনআইএ-কে। এখন তিনটি মোবাইল ফোন থেকে কী তথ্য উঠে আসে, তা-ই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। শওকতের আইনজীবী বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আদালতের নির্দেশে এখন শওকতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এনআইএ-র পরবর্তী পদক্ষেপে বিস্ফোরণের মাস্টারমাইন্ড এবং নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের নাম উঠে আসে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।





