আপদকালীন চিকিৎসা হোক বা স্বপ্নের বিয়ে— যেকোনো আর্থিক প্রয়োজনে পার্সোনাল লোন (Personal Loan) বর্তমান যুগে অত্যন্ত জনপ্রিয়। কিন্তু লোন পাওয়ার তাগিদে আমরা অনেক সময় ছোট ছোট কিছু ভুল করে ফেলি, যার মাশুল গুনতে হয় বছরের পর বছর। আবেদন করার আগে কোন বিষয়গুলো মাথায় না রাখলে আপনার লোন বাতিল হতে পারে বা আপনাকে চড়া সুদ গুনতে হতে পারে, দেখে নিন একনজরে।
১. ক্রেডিট রিপোর্ট যাচাই না করা
লোনের জন্য আবেদন করার আগে নিজের ক্রেডিট রিপোর্টটি ভালো করে দেখে নিন। অনেক সময় দেখা যায়, আপনি কোনো লোন আগে শোধ করে দিলেও রিপোর্টে তা ‘আপডেটেড’ নয়। এই ধরণের ভুল তথ্য আপনার ক্রেডিট স্কোর কমিয়ে দেয় এবং ব্যাংক আপনার আবেদন খারিজ করে দিতে পারে।
২. একাধিক জায়গায় একসঙ্গে আবেদন
লোন পাওয়ার নিশ্চয়তা বাড়াতে আমরা অনেক সময় একই সঙ্গে ৪-৫টি ব্যাংক বা অ্যাপে আবেদন করি। এটি একটি বড় ভুল। প্রতিটি আবেদনের জন্য ব্যাংক যখন আপনার ক্রেডিট স্কোর চেক করে, তখন আপনার স্কোর কিছুটা কমে যায়। একে ‘হার্ড ইনকোয়ারি’ বলা হয়, যা আপনার আর্থিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
৩. নিজের শোধ করার ক্ষমতা না বোঝা
ব্যাংক আপনাকে মোটা অঙ্কের লোন অফার করলেই তা নিয়ে নেবেন না। আগে হিসেব করুন আপনার মাসিক রোজগার কত এবং কত টাকা ইএমআই (EMI) হিসেবে দিলে আপনার দৈনন্দিন খরচ চলবে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আপনার মোট আয়ের ৪০-৫০ শতাংশের বেশি যেন কোনোভাবেই ঋণের কিস্তিতে না যায়।
৪. হিডেন চার্জ এবং ফাইন প্রিন্ট এড়িয়ে যাওয়া
লোন নেওয়ার সময় আমরা কেবল সুদের হার (Interest Rate) দেখি। কিন্তু এর বাইরেও থাকে প্রসেসিং ফি, প্রিপেমেন্ট চার্জ এবং ইনস্যুরেন্স খরচ। চুক্তিপত্রে সই করার আগে এই ‘হিডেন চার্জ’ বা গোপন খরচগুলো ভালো করে পড়ে নিন।
৫. তথ্য গোপন করা
আবেদনপত্রে নিজের আয়ের উৎস বা বর্তমান ঋণের তথ্য গোপন করবেন না। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর কাছে আপনার আর্থিক লেনদেনের সমস্ত তথ্য থাকে। কোনো ভুল তথ্য দিলে কেবল লোন বাতিলই হবে না, ভবিষ্যতে লোন পাওয়ার পথও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
পরামর্শ: লোন নেওয়ার আগে বিভিন্ন ব্যাংকের সুদের হারের তুলনা করুন এবং শুধুমাত্র যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই ঋণ নিন। সঠিক পরিকল্পনা থাকলে পার্সোনাল লোন আপনার বোঝা না হয়ে আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে।





