পাঞ্জাবের অমৃতসরে রবিবার সকালে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে গেল, যা রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। রবিবার সকালে মাজিথা এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হলেন পাঞ্জাব পুলিশের সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর (এএসআই) যোগা সিং। এই ঘটনায় পাঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
সূত্রের খবর, এদিন সকাল ৬টা নাগাদ এএসআই যোগা সিং নিজের স্কুটারে করে ডিউটিতে যাচ্ছিলেন। অমৃতসরের মাজিথা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ফতেহগড় চুরিয়ান-মাজিথা সড়কে ওত পেতে থাকা দুই অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী মোটরসাইকেলে এসে তাঁর স্কুটারটি থামায়। এরপর তারা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই এএসআই-এর ওপর গুলি চালাতে শুরু করে। পুলিশের পাওয়া প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, যোগা সিংয়ের বুকের বাম পাশে এবং কোমরে—মোট দুটি গুলি লেগেছে। গুলির আঘাতেই তিনি ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পৌঁছাতেই অমৃতসরের এসএসপি সোহেল মীর কাসিম এবং ডিএসপি কমলমীত সিং বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তদন্তের খাতিরে ফরেনসিক টিমকে ঘটনাস্থলে ডাকা হয় এবং সেখান থেকে গুলির খোল উদ্ধার করা হয়েছে। এসএসপি জানিয়েছেন, এটি নিছক ডাকাতি না ব্যক্তিগত শত্রুতা, নাকি অন্য কোনো সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে আততায়ীদের শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। মৃত এএসআই যোগা সিং মূলত গুরুদাসপুরের বাঙ্গার এলাকার ঘানিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং তিনি ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত ছিলেন।
এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পাঞ্জাবের রাজনৈতিক মহলে ঝড় উঠেছে। পাঞ্জাব কংগ্রেস সভাপতি অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ভাষায় রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আপ সরকারের শাসনামলে পাঞ্জাবে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “যদি একজন পুলিশ আধিকারিকই সুরক্ষিত না হন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?” গ্যাং সহিংসতা থেকে টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনা পাঞ্জাবে যেভাবে বাড়ছে, তা নিয়ে সরকারের ব্যর্থতাকে তিনি নিশানা করেছেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। আপাতত পাঞ্জাব পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে এবং দুষ্কৃতীদের সন্ধানে পুরো এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে।





