পাক বোলারকে ‘শাস্তি’ দিলেন বুমরা! কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সমর্থন, চরম অপমানের পর হারিসের আর কত শিক্ষা চাই?

ভারতীয় ব্যাটারদের হাতে চরম মার খেয়েও শিক্ষা হয়নি, পরপর ম্যাচ হেরেও হুঁশ ফেরেনি, জরিমানাতেও বদলায়নি মানসিকতা। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের ঔদ্ধত্যের জবাব দিলেন টিম ইন্ডিয়ার পেস সেনসেশন জসপ্রীত বুমরা। ক্রিকেট মাঠে হারিস রউফকে ‘শূন্য’ রানে ফিরিয়ে বুমরা তাঁরই করা ‘বিমান ভেঙে পড়ার’ অঙ্গভঙ্গি দিয়েই দিলেন যোগ্য জবাব।

হারিসের ঔদ্ধত্য, বুমরার ‘বদলা’
যে হারিস রউফ ভারতের বিরুদ্ধে ৬-০ দেখিয়ে চিৎকার করছিলেন এবং যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার মতো হাত দেখিয়েছিলেন, সেই হারিসকেই শেষ ওভারে পিটিয়ে এশিয়া কাপ জিতেছে ভারত। ফাইনালেও ৪ ওভার সম্পূর্ণ না করেই তিনি ৫০ রান দেন। তবে এই ম্যাচের আগে অভিষেক শর্মার ক্যাচ ধরেও হারিস ফের একবার বিমান ভেঙে পড়ার অঙ্গভঙ্গি করেছিলেন।

কিন্তু এবার আর চুপ থাকল না টিম ইন্ডিয়া। পাকিস্তানের ইনিংসের ১৯.১ ওভারে হারিস রউফকে এক দুর্দান্ত ইয়র্কারে বোল্ড করেন বুমরা। হারিস শূন্য রানে আউট হতেই বুমরা ঘুরে দাঁড়ান এবং তাঁরই সেই বিমান ভেঙে পড়ার অঙ্গভঙ্গি করে পাল্টা জবাব দেন। ভারতীয় পেসারের এই ‘বদলা’র অঙ্গভঙ্গি মুহূর্তের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।

মন্ত্রী বললেন, ‘এই শাস্তি প্রাপ্য’
বুমরার এই অঙ্গভঙ্গি নিয়ে পোস্ট করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুও। তিনি স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, “পাকিস্তানের এই শাস্তি প্রাপ্য।” ক্রিকেট মাঠে ঔদ্ধত্য দেখিয়ে ক্রমাগত বিতর্কের জন্ম দেওয়া হারিস রউফকে বুমরা যে শিক্ষা দিলেন, তা বহুদিন মনে রাখবে ক্রিকেট বিশ্ব।

ভারতের দাপটে তছনছ পাকিস্তান
রবিবার এশিয়া কাপ ফাইনালে টসে জিতে প্রথমে পাকিস্তানকে ব্যাট করতে পাঠায় ভারত। একসময় মাত্র এক উইকেটে ১১৩ রান তুলে দারুণভাবে এগোচ্ছিল পাকিস্তান। কিন্তু এরপরই শুরু হয় ভারতীয় বোলারদের দাপট। ১২.৪ ওভার থেকে ১৯.১ ওভারের মধ্যে মাত্র ৩৩ রান যোগ করেই পাকিস্তানের শেষ ৯ উইকেট পড়ে যায়। ১৯.১ ওভারে ১৪৬ রানে অল-আউট হয়ে যায় তারা।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভারতও শুরুতে কিছুটা চাপে পড়ে। মাত্র ২০ রানেই ফিরে যান দুই ওপেনার সহ তিন ব্যাটার। এরপর হাল ধরেন সঞ্জু স্যামসন ও তিলক বর্মা। চতুর্থ উইকেটে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৫৭ রান। তবে ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন তিলক বর্মা। তিনি ৫৩ বলে অপরাজিত ৬৯ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। শিবম দুবে ২২ বলে ৩৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। শেষ পর্যন্ত রিঙ্কু সিং হারিস রউফকে চার মেরে উইনিং রানটি করেন এবং ভারতের এশিয়া কাপ জয় নিশ্চিত হয়।