পাক চর রানা কাণ্ডে বড় সাফল্য এসটিএফের! জালের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল আসল মাস্টারমাইন্ড?

গোয়েন্দা মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ফেলে দিয়ে পাকিস্তানি চর রানা রউফকে (Rana Rauf) সাহায্য করার অভিযোগে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ (STF)-এর জালে ধরা পড়ল আরও এক অভিযুক্ত। ধৃত এই ব্যক্তির নাম ইমরান হোসেন, যাকে সম্প্রতি কলকাতার তপসিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মাত্র কয়েকদিন আগেই একই এলাকা থেকে রানার অন্যতম প্রধান ‘সহযোগী’ হিসেবে এক কলেজ ছাত্রকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। মোহাম্মদ ইজাজ নামের সেই যুবকের গ্রেপ্তারের পর এবার ইমরানের জালে আসায় এই গুপ্তচর চক্রের গভীরে আরও বড় কোনো নেটওয়ার্ক কাজ করছে বলেই জোরালো আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তদন্তকারীরা।

এসটিএফ সূত্রে পাওয়া চাঞ্চল্যকর তথ্যে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ইমরানের বিরুদ্ধে কেবল ভারতীয় ভুয়ো পরিচয়পত্র বা নথি তৈরি করে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগই নেই, বরং তার চেয়েও অনেক বেশি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, পাকিস্তানি চর রানাকে পাকিস্তান থেকে আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারত তথা কলকাতায় প্রবেশ করানোর নেপথ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল এই ইমরান। এসটিএফ জানতে পেরেছে যে, নেপাল সীমান্ত ও কাঠমান্ডু রুট ব্যবহার করে রানাকে ভারতে নিয়ে আসত ইমরান নিজে। এমনকি নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে প্রায় পাঁচবার সুকৌশলে কলকাতায় আনা হয়েছিল ওই পাক চরকে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কলকাতায় নিয়ে আসার পর রানাকে বিভিন্ন অতি সংবেদনশীল এলাকা ও সামরিক ছাউনিতে ঘুরিয়ে দেখাতো ধৃত ইমরান। যার মধ্যে কলকাতার ঐতিহাসিক ফোর্ট উইলিয়ম, ব্যারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশনও অন্তর্ভুক্ত ছিল। মূলত পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর এজেন্ট রানাকে এ রাজ্যের ভৌগোলিক অবস্থান এবং সামরিক পরিকাঠামো চিনতে সাহায্য করাই ছিল ইমরানের মূল কাজ। আর এই সুনির্দিষ্ট ও অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতেই এসটিএফ তাকে পাকড়াও করেছে। আজই ধৃতকে বারাসত আদালতে পেশ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, এই গোটা চক্রটি শুধুমাত্র রানা, ইজাজ বা ইমরান পর্যন্তই সীমাবদ্ধ নয়; এর নেপথ্যে আরও বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি বা স্লিপার সেল যুক্ত থাকতে পারে। ঘুরপথে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-কে এদেশের অভ্যন্তরীণ গোপন তথ্য পাচার করতে সুসংগঠিতভাবে একটি শক্তিশালী চক্র কাজ করছে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।

উল্লেখ্য, এর আগে হাবড়া এলাকা থেকে জঙ্গি সন্দেহে রানা রউফকে পাকড়াও করেছিল এসটিএফ। ধৃত রানা পাকিস্তানি নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও অত্যন্ত সুকৌশলে ভুয়ো নথিপত্র তৈরি করে এ রাজ্যে বসবাস করছিল। এসটিএফের তদন্তে উঠে আসে যে, ভারতীয় সেনা, নৌসেনা এবং রেল পরিকাঠামো সংক্রান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য ও ছবি গোপনে সংগ্রহ করে তা পাকিস্তান পাঠাত সে। সেই সূত্র ধরেই প্রথমে তপসিয়ার এক কলেজ ছাত্র এবং বর্তমানে ইমরানকে গ্রেফতার করে গোটা নেটওয়ার্কের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছে এসটিএফ।