আর্থিক সংকটে জর্জরিত পাকিস্তানের কপালে এবার চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করল দীর্ঘদিনের বন্ধু দেশ সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)। গত সাত বছর ধরে চলা প্রথা ভেঙে এবার ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণের মেয়াদ বাড়াতে বা ‘রোলওভার’ করতে সাফ অস্বীকার করেছে আবুধাবি। উল্টে সেই বিপুল পরিমাণ অর্থ দ্রুত ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ইসলামাবাদকে। আমিরশাহির এই অনড় মনোভাবের জেরে পাকিস্তানের ধুঁকতে থাকা অর্থনীতির কঙ্কালসার চেহারাটা ফের বিশ্বের সামনে প্রকট হয়ে পড়ল।
পাকিস্তানের বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রায় ১৮ শতাংশই হলো এই ৩ বিলিয়ন ডলার। মার্চের শেষে এই রিজার্ভ দাঁড়িয়েছিল মাত্র ১৬.৪ বিলিয়ন ডলারে, যা দিয়ে বড়জোর তিন মাসের আমদানি খরচ মেটানো সম্ভব। এই পরিস্থিতিতে ঋণের টাকা শোধ করতে হলে দেশটির কোষাগার কার্যত শূন্য হয়ে পড়বে। এই খবরের প্রভাবে পাকিস্তানের প্রধান শেয়ার সূচক KSE-100 এক ধাক্কায় ১৫ শতাংশ পড়ে গিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা হারানোয় রুপির মানও চরম অস্থিরতার মুখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের পর বছর কাঠামোগত সংস্কার না করে কেবল বিদেশি ঋণের ওপর টিকে থাকার মাশুল গুনছে পাকিস্তান। আইএমএফ (IMF)-এর ঋণের কিস্তি পেতে দেরি এবং আন্তর্জাতিক বন্ড শোধের চাপের মুখে আমিরশাহির এই ‘না’ বড়সড় কূটনৈতিক বার্তাও বটে। বন্দর বা বিমানবন্দরের মতো কৌশলগত সম্পদ বিক্রির প্রস্তাব দিয়েও এবার আরব বন্ধুদের মন ভেজানো যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে, ঋণের জালে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকা পাকিস্তানের সামনে এখন দেউলিয়া হওয়া বাঁচানোই সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।





