মহারাষ্ট্রের পাওয়ার পরিবার এবং এনসিপি-র রাজনীতি এখন এক চরম অনিশ্চয়তার সন্ধিক্ষণে। অজিত পাওয়ারের আকস্মিক বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর রাজ্য রাজনীতিতে যে নাটকীয় পট পরিবর্তন শুরু হয়েছে, তা এখন এক নতুন মোড় নিল। অজিতের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বারামতিতে ফিরে এলেও, প্রবীণ নেতা শরদ পাওয়ারের অবস্থান ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। শনিবার সুনেত্রার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে শরদ পাওয়ারের অনুপস্থিতি জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলেছে।
রবিবার সকালে শরদ পাওয়ার যখন বারামতী থেকে মুম্বাইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন, ঠিক তখনই সুনেত্রা পাওয়ার মুম্বাই থেকে বারামতিতে ফিরে আসেন। কাকা ও ভ্রাতৃবধূর এই ‘লুকোচুরি’ বা সাক্ষাৎ এড়িয়ে চলা কি কোনো বড় ফাটলের ইঙ্গিত? রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, অজিতের মৃত্যুর পর দুই এনসিপি গোষ্ঠীর একীভূতকরণের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা কি এখন সুনেত্রার উত্থানে থমকে গেল? শরদ পাওয়ার নিজেই দাবি করেছেন যে, সুনেত্রার শপথ গ্রহণ নিয়ে তাঁর কাছে আগাম কোনো তথ্য ছিল না। এমনকি ১২ ফেব্রুয়ারি অজিত পাওয়ার যে একীভূতকরণের ঘোষণা করার পরিকল্পনা করেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে পাওয়ার পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম কিন্তু সক্রিয়। শপথের আগে অজিতের ছেলে পার্থ পাওয়ার বারামতীর গোবিন্দবাগে গিয়ে দাদু শরদ পাওয়ারের সঙ্গে দেখা করেছেন। সেখানে সুপ্রিয়া সুলে এবং রোহিত পাওয়ারও উপস্থিত ছিলেন। তবে পরিবারের বড়দের মধ্যে দূরত্ব ঘুচছে না। সুপ্রিয়া সুলে বর্তমানে বাজেট অধিবেশনে যোগ দিতে দিল্লিতে। অন্যদিকে, শরদ পাওয়ার মুম্বাই পৌঁছালেও সেখানে তাঁর কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই। সব মিলিয়ে, অজিত-পরবর্তী এনসিপি-র রাশ কার হাতে থাকবে এবং পরিবারটি আবার এক হবে কি না, তা নিয়ে মহারাষ্ট্রের অন্দরে এখন টানটান উত্তেজনা।