রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা মতো স্পেশ্যাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে মঙ্গলবার থেকে। আর এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার) হিসেবে নিযুক্ত করেছে কমিশন। কিন্তু শিক্ষকরা এই কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লে স্কুলগুলির পঠন-পাঠনে মারাত্মক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান জেলায় এই সমস্যা এখন চরম আকার নিয়েছে।
সব শিক্ষকই বিএলও:
পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট ব্লকের পালিশগ্রাম উত্তরপাড়া অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন মাত্র পাঁচজন শিক্ষক, এবং আশ্চর্যের বিষয় হলো—এই পাঁচজন শিক্ষককেই দেওয়া হয়েছে বিএলও-এর দায়িত্ব। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন চলবে, সেই নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন শিক্ষক থেকে শুরু করে অভিভাবক সকলেই।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ জহিরউদ্দিন বলেন, “বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক আছেন। পঠনপাঠন চালাতে এমনিতেই হিমশিম খেতে হয়। পাঁচজনকেই বিএলও ডিউটি দেওয়া হয়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলাম, কিন্তু আমাদের বলেছে ডিউটি করতেই হবে।”
স্কুল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা:
প্রধান শিক্ষক-সহ অন্যান্য শিক্ষকদের দাবি, পাঁচজনকেই যদি একসঙ্গে ট্রেনিংয়ে যেতে হয় বা বিএলও-এর দ্বায়িত্ব পালন করতে হয়, তাহলে স্কুল বন্ধ রাখা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। বন্ধ থাকবে পঠনপাঠন।
এছাড়াও বিদ্যালয়ে সামনেই পরীক্ষা, পড়ুয়াদের পড়ানো, খাতা দেখা এবং মিড ডে মিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি কীভাবে সামলানো হবে তা নিয়েও শিক্ষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। পরীক্ষার আগে সিলেবাস সম্পূর্ণ করা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সহ শিক্ষক পিন্টু ঘোষ বলেন, “শুনছি এক একটা বাড়িতে তিনবার করে যেতে হবে। আমি সকালে বেরিয়ে স্কুলে এসে বিকেলে বাড়ি ফিরি। তাহলে আমি এসআইআর-এর কাজটা করব কখন, এটা আমি চিন্তায় আছি।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, একই এলাকায় অন্যান্য শিক্ষক থাকলেও, কেন এই পাঁচজনকেই একসঙ্গে দায়িত্ব দেওয়া হলো?
অভিভাবকদের প্রশ্ন, সব শিক্ষককে যদি এসআইআর-এর কাজের জন্য তুলে নেওয়া হয়, তাহলে বাচ্চাদের পড়াবেন কারা? বিদ্যালয়ের তরফে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও, এখনও পর্যন্ত কোনো সুরাহা মেলেনি।





