বিশ্ব রাজনীতির দুই ‘পাওয়ার হাউস’ ফের একবার নিজেদের বন্ধুত্ব ও বোঝাপড়ার প্রমাণ দিলেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ, ২০২৬) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিশেষ বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দরাজ শংসাপত্র দিয়েছেন। দিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে শেয়ার করা এক বার্তায় ট্রাম্প জানিয়েছেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং আমি এমন দু’জন মানুষ যারা সবকিছুর সমাধান করে ফেলি, যা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, আগামী দিনে ভারত ও আমেরিকার এই ‘অ্যামেজিং’ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুই নেতার মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ হয়। সূত্রের খবর, ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে এবং ‘হরমজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে তাঁদের মধ্যে। ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, বিশ্ববাজারে তেলের জোগান স্বাভাবিক রাখতে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী মোদীও এক্স-এ (X) জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরাতে ভারত ও আমেরিকা একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বার্তা বুঝিয়ে দিচ্ছে যে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সংকটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী তাঁর কাছে কতটা নির্ভরযোগ্য। বিশেষ করে ট্রাম্প যখন ইরানকে ৫ দিনের সামরিক হুঁশিয়ারি দিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন, তখন মোদীর সাথে এই আলোচনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ট্রাম্প ও মোদীর এই ‘পারস্পরিক বিশ্বাস’ কেবল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নয়, বরং বিশ্বশান্তি রক্ষায় এক নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।