পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগের অঙ্গীকার! পুজোয় আসছে ‘বাঘীরা’স ট্রেইল’ ও ‘টি অ্যান্ড টিম্বার ট্রেইল’

দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR), যা শুধু একটি ট্রেন নয় বরং জীবন্ত ইতিহাস ও হেরিটেজের প্রতীক, এবার পর্যটকদের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে আসছে। পুজোর আগেই DHR দুটি বিশেষ ‘ফুললেন সার্ভিস’ চালু করতে চলেছে – Bagheera’s Trail এবং Tea & Timber Trail। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ট্রেনের যাত্রাকে শুধু গন্তব্যে পৌঁছনোর মাধ্যম না রেখে, পর্যটকদের কাছে পাহাড়ের প্রকৃতি, সংস্কৃতি এবং বনজীবনের এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা তুলে ধরা।

DHR-এর এই নতুন পরিষেবাগুলি পর্যটন শিল্পের প্রচলিত ধারণাকে ভেঙে দিতে চাইছে। ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরীর কথায়, “DHR কখনওই নিজেকে কেবল পর্যটন শিল্পের বাহক হিসাবে সীমাবদ্ধ রাখতে চায়নি। আমাদের উদ্যোগ স্থানীয় শিল্প, বনজ জীবন এবং মানুষের সঙ্গে মিলে একটি সার্বিক অভিজ্ঞতা গড়ে তোলার। DHR-কে নতুনভাবে চেনার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়।”

‘বাঘীরা’স ট্রেইল’: প্রকৃতি, ইতিহাস ও উপজাতীয় সংস্কৃতির মেলবন্ধন
Bagheera’s Trail টং থেকে কার্শিয়ংয়ের দিকে যাত্রা শুরু করবে। এই যাত্রায় পর্যটকরা প্রথমেই কার্শিয়ং আর্কাইভ পরিদর্শন করবেন, যা এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ ইতিহাস তুলে ধরবে। এরপর তাদের নিয়ে যাওয়া হবে ডাউহিল ফরেস্ট অঞ্চলে, যেখানে প্রায় ১.৫-২ ঘণ্টার ট্রেকিংয়ের অভিজ্ঞতা থাকবে। ট্রেক শেষে, বন দফতরের তত্ত্বাবধানে পর্যটকদের পরিবেশন করা হবে উপজাতিদের হাতে তৈরি খাঁটি আদিবাসী খাবার। দিনের শেষে ফরেস্ট মিউজিয়াম ঘুরে কার্শিয়াং থেকে মহানদী পর্যন্ত একটি বিশেষ ‘সানসেট চার্টার্ড রাইড’-এর মাধ্যমে এই অনন্য ট্রেইলের সমাপ্তি ঘটবে। প্রকৃতি, ইতিহাস এবং স্থানীয় সংস্কৃতির এমন এক অসাধারণ সংমিশ্রণই ‘বাঘীরা’স ট্রেইল’কে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় করে তুলছে।

‘টি অ্যান্ড টিম্বার ট্রেইল’: চা বাগান ও অরণ্যের ঘ্রাণে মোড়া যাত্রা
অন্যদিকে, পাহাড় ছেড়ে সমতলের দিকে নজর রেখে শুকনা থেকে রংটং পর্যন্ত চালু হচ্ছে Tea & Timber Trail। এই রুটে পর্যটকদের জন্য অপেক্ষা করছে রংটং সংলগ্ন চা বাগানগুলোর মন মাতানো দৃশ্য, তাদের স্নিগ্ধ ছায়া এবং চা সংস্কৃতির সমৃদ্ধ ঐতিহ্য। এই যাত্রায় শুধুমাত্র প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখাই নয়, থাকবে চা উৎপাদনের পদ্ধতি, চা শ্রমিকদের জীবনযাপন এবং স্থানীয় কৃষ্টির এক বাস্তব অভিজ্ঞতা। রেলযাত্রার প্রতিটি স্টেশনে একটি চা অঞ্চলের গভীর পরিচয় এবং অরণ্যের নিস্তব্ধতা উপলব্ধি করা যাবে।

ইতিমধ্যেই এই দুটি নতুন ট্রেনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই টিকিট বুকিং প্রক্রিয়া ও নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হবে। DHR-এর এই নতুন উদ্যোগ উত্তরবঙ্গের প্রাকৃতিক ঐশ্বর্যকে আরও নিবিড়ভাবে উপভোগ করার সুযোগ করে দেবে। পাহাড়ি রেলকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই নতুন গল্পের অধ্যায় হয়তো বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে DHR-এর নামকে আরও উজ্জ্বল করে তুলবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy