পরকীয়ার জেরে ভয়ঙ্কর পরিণতি! স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে খুন করল স্ত্রী ও মেয়ে

পরকীয়া সম্পর্কের জেরে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে এল। স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করার পর পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে খুনের অভিযোগ উঠল খোদ স্ত্রীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, এই জঘন্য অপরাধে মাকে হাতেনাতে সাহায্য করেছিল তাঁদের নিজের মেয়ে এবং মেয়ের কথিত প্রেমিক। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় পুলিশ তিন অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করেছে।

ঠিক কী ঘটেছিল মথুরায়?

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মথুরার জয়সিংহপুরার রাধা-কৃষ্ণ ভাটিকার বাসিন্দা মনোজ সোনি (৪২) গত ১৮ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। গত ২১ এপ্রিল তাঁর স্ত্রী নয়না গোবিন্দ নগর থানায় স্বামীর নিখোঁজ ডায়েরিও করেন। কিন্তু রহস্যজনকভাবে পরের দিনই কোনও কারণ দর্শানো ছাড়াই সেই অভিযোগ তুলে নেন তিনি। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে মনোজের কোনো খোঁজ না মেলায় তাঁর ভাই রামবাবু গত ৯ মে থানায় গিয়ে নতুন করে অপহরণ বা খুনের অভিযোগ দায়ের করেন।

তদন্তে নেমে পুলিশ চাঞ্চল্যকর তথ্য পায়। রামবাবুর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তে নেমে স্ত্রী নয়না, তাঁদের ছোট মেয়ে ভক্তি এবং ভক্তির প্রেমিক ২২ বছরের বিমল চৌধুরীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। জেরাতেই বেরিয়ে আসে আসল সত্য।

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে খুন ও দেহ লোপাটের চেষ্টা

পুলিশের কাছে জমা পড়া অভিযোগ অনুযায়ী, মনোজ তাঁর মেয়েকে তার কথিত প্রেমিকের সঙ্গে আপত্তিকর পরিস্থিতিতে দেখে ফেলেছিলেন। এই অবৈধ সম্পর্ক নিয়ে প্রতিবাদ করায় স্ত্রীর সঙ্গে মনোজের তীব্র ঝামেলা ও অশান্তি শুরু হয়। এর পরই অভিযুক্ত স্ত্রী নয়না, মেয়ে ভক্তি এবং মেয়ের প্রেমিক বিমল মিলে মনোজকে ঠান্ডা মাথায় দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে মনোজকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়। এরপর পাথর দিয়ে তাঁর মাথা থেঁতলে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। খুন করার পর প্রমাণ লোপাট করতে মনোজের দেহ যমুনার তীরবর্তী একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এখানেই শেষ নয়, পোড়ানোর পর যেটুকু দেহাবশেষ বা ছাই অবশিষ্ট ছিল, তা স্থানীয় একটি জঙ্গলের মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়।

ঘটনার তিন মাসের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও এখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণ দেহের সন্ধান মেলেনি। মথুরার সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (SSP) শ্লোক কুমার জানিয়েছেন, গোবিন্দ নগর থানার এসএইচও (SHO) অজয় বর্মার নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক দল গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে ওই এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। ধৃত তিনজনকে কঠোর জেরা করে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য থাকা সমস্ত তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা করছে পুলিশ।