পদার্থবিদ্যায় নোবেলের সমকক্ষ সম্মান! বিশ্বমঞ্চে ভারতের জয়জয়কার, ডিরাক মেডেল জয়ী প্রখ্যাত বিজ্ঞানী দীপক ধর

তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফের একবার দেশের নাম উজ্জ্বল করে এক অভূতপূর্ব ইতিহাস গড়লেন ভারতের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী দীপক ধর। বিশ্বজুড়ে তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার ক্ষেত্রে অন্যতম সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ ও ঐতিহাসিক পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত ‘ডিরাক মেডেল’ (Dirac Medal) অর্জন করেছেন ৭৫ বছর বয়সি এই প্রতিভাবান গবেষক। কোয়ান্টাম তত্ত্বের অগ্রগতি ও বিকাশে অনন্য অবদান রাখার স্মরণে ১৯৮৫ সালে ইতালির ‘আব্দুস সালাম ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরিটিক্যাল ফিজিক্স’-এর পক্ষ থেকে এই আন্তর্জাতিক সম্মান চালু করা হয়েছিল। বিখ্যাত পদার্থবিদ পল ডিরাকের নামাঙ্কিত এই মেডেল অর্জনের মাধ্যমে ভারতীয় বিজ্ঞান জগতের মুকুটে এক নতুন ও উজ্জ্বল অধ্যায় যোগ হলো।

এই আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় দীপক ধর অত্যন্ত বিনীতভাবে জানান যে, গবেষকরা সাধারণত স্বীকৃতি বা পুরস্কারের আশায় সারাজীবন সাধনা করেন না। তবে বহু বছর আগে করা তাঁর মৌলিক গবেষণা যে বর্তমান কালেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং ২৫ বছর পরেও আন্তর্জাতিক স্তরে সমাদৃত হচ্ছে, তা তাঁকে এক অন্যরকম আনন্দ দিয়েছে। উল্লেখ্য, এটি তাঁর জীবনের প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মান নয়। এর আগে ২০২২ সালে তিনি মর্যাদাপূর্ণ ‘বোল্টজম্যান মেডেল’ অর্জন করেছিলেন এবং সেই বিরল সম্মান পাওয়া তিনিই ছিলেন প্রথম ভারতীয় বিজ্ঞানী। বিশ্বের পদার্থবিদ্যার ইতিহাসে ডিরাক এবং বোল্টজম্যান—এই দুটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পাওয়ার বিরল কৃতিত্ব রয়েছে মাত্র ১০ জন বিজ্ঞানীর ঝুলিতে, যাঁদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তীতে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

বর্তমানে বেঙ্গালুরুর ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরিটিক্যাল সায়েন্সেস’-এ ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সায়েন্স অ্যাকাডেমির বিশিষ্ট অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন দীপক ধর। এর দীর্ঘ বর্ণময় কর্মজীবনে তিনি মুম্বইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ (TIFR) এবং পুণের আইআইএসইআর (IISER)-এর মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৫১ সালে উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড়ে জন্ম নেওয়া দীপক ধর এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় ও আইআইটি কানপুরে তাঁর প্রারম্ভিক শিক্ষা সম্পন্ন করার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখানে অধ্যয়নকালে তিনি বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিদ রিচার্ড ফেইনম্যানের সহকারী হিসেবেও অত্যন্ত সফলভাবে কাজ করেছিলেন।

বিদেশের মাটিতে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং লোভনীয় সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি অন্য বহু বিজ্ঞানীর মতো বিদেশে স্থায়ীভাবে থেকে যাননি, বরং নিজের মাতৃভূমিতে ফিরে আসার পথ বেছে নিয়েছিলেন। গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সম্পূর্ণভাবে দেশেই মৌলিক বিজ্ঞানের চর্চা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বর্তমান প্রজন্মের তরুণ গবেষকদের উদ্দেশে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, অতীতে মৌলিক বিজ্ঞানের গবেষণার সুযোগ সীমিত থাকলেও আজ সুযোগ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে গবেষণার মৌলিক নিষ্ঠা ও চ্যালেঞ্জ আজও অপরিবর্তিত। বিজ্ঞানের জটিল সমীকরণের