সীমানার লড়াই এবার ল্যাবরেটরিতে? চিন ও আমেরিকার মধ্যেকার কয়েক দশকের রেষারেষি কি এবার বিজ্ঞানীদের প্রাণের ওপর গিয়ে পড়ছে? গত দু’বছরে দুই মহাশক্তির মোট ১৮ জন উচ্চপদস্থ বিজ্ঞানীর রহস্যজনক মৃত্যুতে তোলপাড় বিশ্ব। গবেষকদের এই আকস্মিক বিদায়কে স্রেফ ‘দুর্ঘটনা’ বলে মানতে নারাজ বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের দাবি, বিশ্ব কি এক ভয়ংকর ‘সায়েন্টিফিক কোল্ড ওয়ার’ বা বৈজ্ঞানিক স্নায়ুযুদ্ধের সাক্ষী হতে চলেছে?
আকস্মিক মৃত্যুর পরিসংখ্যান: রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কর্মরত বিজ্ঞানীদের প্রাণ গিয়েছে:
চিন: অস্ত্র, ড্রোন ও হাইপারসনিক মিসাইল প্রকল্পের সাথে যুক্ত ৮ জন বিজ্ঞানী।
আমেরিকা: পারমাণবিক শক্তি প্রকল্পের সাথে যুক্ত ১০ জন বিজ্ঞানী।
চিনের ‘টার্গেট’ লিস্টে কারা? চিনের মৃত বিজ্ঞানীদের মধ্যে এমন নাম রয়েছে যাঁরা দেশের সামরিক শক্তিকে কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কারিগর ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
ফাং ডেইনিং: হাইপারসনিক মিসাইল বিশেষজ্ঞ, যিনি ২০২৪ সালে আফ্রিকা সফরে গিয়ে প্রাণ হারান।
লিউ ডংহাও ও ঝাং ডাইবিং: দুই ড্রোন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞই রহস্যজনক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন।
ঝাং জিয়াওক্সিন: মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কর্মসূচির এই স্তম্ভ ২০২৪ সালে একটি পথ দুর্ঘটনায় শেষ হয়ে যান।
আমেরিকায় পরমাণু বিজ্ঞানীদের হাহাকার: আমেরিকার পরিস্থিতিও তথৈবচ। পারমাণবিক প্রকল্পের ১০ জন বিজ্ঞানীর সন্দেহজনক মৃত্যুর কথা প্রকাশ্যে আসতেই হোয়াইট হাউস তদন্তের নির্দেশ দিলেও, তার ফলাফল এখনও পর্দার আড়ালেই রয়ে গিয়েছে। এই মৃত্যুগুলোর কোনওটির কারণ ‘হঠাৎ অসুস্থতা’, আবার কোনওটি ‘অজানা রোগ’।
কেন এই সন্দেহ? প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের বিশ্বে সীমান্তে কামানের গোলার চেয়ে বেশি শক্তিশালী হাইপারসনিক মিসাইল বা এআই-চালিত ড্রোন। যে দেশের বিজ্ঞানীরা এই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করবেন, তারাই বিশ্ব শাসন করবে। এমন পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানীদের বেছে বেছে নিকেশ করা কি প্রতিপক্ষ দেশের কোনও গোপন অভিযান? এই প্রশ্নটাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে।
নতুন স্নায়ুযুদ্ধের পদধ্বনি? লড়াইটা এখন আর সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, বরং গবেষণাগারের ভিতর। দুই দেশের সরকারই এই মৃত্যুগুলি নিয়ে অদ্ভুত নীরবতা পালন করছে। না চিন কোনও ষড়যন্ত্রের কথা কবুল করছে, না আমেরিকা স্পষ্ট কিছু জানাচ্ছে। এই গোপনীয়তাই রহস্যের মেঘকে আরও ঘনীভূত করছে।
“প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বই এখন যুদ্ধের নতুন অস্ত্র। আর সেই অস্ত্রের কারিগরদের জীবন আজ ঘোর সংকটে।” — আন্তর্জাতিক কূটনীতি বিশেষজ্ঞ।
এটি কি শুধুই কয়েকটি কাকতালীয় মৃত্যু, নাকি বিশ্ব এক অদৃশ্য ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে? উত্তর হয়তো দেবে ভবিষ্যৎ।





