দেড়শ বছর আগের সেই বীভৎস স্মৃতি কি আবার ফিরে আসতে চলেছে? ১৮৭৭ সালে যে ভয়াবহ এল নিনোর কারণে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ গিয়েছিল, ২০২৭ সালের মধ্যে তার চেয়েও শক্তিশালী এক ‘সুপার এল নিনো’ ধেয়ে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে এই দানবীয় সামুদ্রিক স্রোত ভারতের মতো কৃষিপ্রধান দেশের জন্য এক চরম বিপর্যয়ের বার্তা নিয়ে আসছে।
কী এই ‘সুপার এল নিনো’? সাধারণত ২ থেকে ৭ বছর অন্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পিঠের জল অস্বাভাবিক গরম হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ‘এল নিনো’ বলা হয়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এবার তা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী হয়ে ‘সুপার এল নিনো’-তে রূপ নিতে চলেছে। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে স্থলভাগের আবহাওয়ায়।
ভারতের জন্য অশনি সংকেত পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৫১ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ভারতে ১৫ বার এল নিনোর প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে ৯ বারই দেশজুড়ে বর্ষা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম হয়েছে। এর আগে ২০০৯ এবং ২০১৫ সালের খরায় শুকিয়ে গিয়েছিল দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা। বিজ্ঞানীদের মতে, এবারের সুপার এল নিনোর প্রভাব হতে পারে আরও বিধ্বংসী। এর ফলে চরম তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং ফসলহানির কারণে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উষ্ণতম ২০টি শহরের ১৯টিই ভারতে! জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা কতটা গভীরে, তা বোঝা যায় সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে। বিশ্বের সবচেয়ে গরম ২০টি শহরের মধ্যে ১৯টিই ভারতের— যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উত্তরপ্রদেশের নাম সবার উপরে। এপ্রিল মাসেই তাপমাত্রা ৪৩-৪৪ ডিগ্রি ছুঁয়ে ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে সুপার এল নিনোর দাপট শুরু হলে জীবনযাত্রার মান কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে চিন্তিত বিশেষজ্ঞরা।
১৮৭৭-এর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি? ১৮৭৭ সালে এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। অসহ্য গরম এবং ফসলের অভাবে মারা গিয়েছিলেন কয়েক কোটি মানুষ। গবেষকদের আশঙ্কা, গ্রিন হাউস গ্যাসের নির্গমন না কমলে ২০২৬-২৭ সালের মধ্যে সেই অন্ধকার দিন আবার ফিরে আসতে পারে।
এখন থেকেই বিশ্ববাসীকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। ভারতের মতো জনবহুল দেশে খরা ও খাদ্যসংকট মোকাবিলায় আগাম পরিকল্পনা না থাকলে এই ‘সুপার এল নিনো’ এক নতুন মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।





