পথের কাঁটা সরাতে স্বামীকে খুন, স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো স্ত্রী! মেয়ের বয়ানে শিউরে উঠছে পুলিশও

বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় স্বামীকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির গোঘাটে, যেখানে বরুণ দাস নামের এক যুবককে তাঁর স্ত্রী প্রেমিকের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে খুন করিয়েছেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় পুলিশের তদন্তে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বরুণ দাসের স্ত্রী মিতা অন্য একজনের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। সেই সম্পর্কের পথের কাঁটা সরাতে তিনি প্রেমিকের সঙ্গে এক ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মিতার প্রেমিক বরুণ দাসের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার বরুণ দাস বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি। এরপর পরিবার থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, নিখোঁজ হওয়ার দিন বরুণ দাসকে একটি মদের আসরে ডাকা হয়েছিল। সেখানেই তাঁকে খুন করা হয়। খুনের পর, সম্ভবত প্রেমিকের কাছ থেকে একটি ফোন আসে বরুণের স্ত্রীর কাছে। সেই ফোনেই স্বামী মারা যাওয়ার খবর নিশ্চিত হয়ে মিতা নাকি বলেন, “যাক, পথের কাঁটা সরে গেল।”

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, খুনের পর মিতার মুখে এই কথাগুলো শুনে ফেলেছিলেন তাঁদেরই নাবালিকা মেয়ে। মায়ের এমন কথা শুনে মেয়ে আতঙ্কিত হয়ে যায় এবং জিজ্ঞাসা করে, “কাকে খুন করেছ?” উত্তরে মা নির্দ্বিধায় বলেন, “তোর বাবাকে।” এরপর মিতা তার নাবালিকা মেয়েকে হুমকি দিয়ে বলেন যে, যদি কাউকে সে এই ঘটনার কথা জানায়, তাহলে তাকেও খুন করে দেওয়া হবে। মায়ের এই হুমকির পর নাবালিকা মেয়েটি প্রথমে ভয়ে কাউকে কিছু জানায়নি। কিন্তু পরে তার সাহস সঞ্চয় করে পুলিশকে পুরো ঘটনা খুলে বলায় এই জঘন্য অপরাধের পর্দাফাঁস হয়।

বরুণ নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্ত্রীর আচরণে কোনো হেলদোল দেখা যায়নি বলে পরিবারের অভিযোগ। তার স্বাভাবিক জীবনযাপন, রান্নাবান্না, খাওয়া-দাওয়া – কোনো কিছুতেই কোনো বদল আসেনি। এমনকি নিজেকে সন্দেহের ঊর্ধ্বে রাখতে তিনি নিখোঁজ স্বামীকে খোঁজার ব্যাপারেও তৎপরতা দেখান। পরিবারের দাবি, মিতার এই সব আচরণই ছিল সম্পূর্ণ নাটক।

পুলিশের তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, পাশের গ্রামের যুবক তন্ময়ের সঙ্গে প্রায় দেড় বছর আগে মিতার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এক বছর আগে মিতা তন্ময়ের হাত ধরে বাড়ি ছেড়েছিলেন এবং প্রায় এক মাস আগে শ্বশুরবাড়ি ফিরে আসেন। শ্বশুরবাড়ি ফিরে আসার পরই তিনি নিজেকে ‘ভালো গৃহবধূ’ প্রমাণ করার চেষ্টা করেন এবং একইসঙ্গে প্রেমিক তন্ময়ের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুন করার ছক কষতে শুরু করেন। পরিবারের সদস্যদের বয়ান এবং বিভিন্ন সন্দেহের সূত্র মিলিয়ে পুরো ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায়।

এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গোঘাট এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ মিতা এবং তার প্রেমিককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy