পড়াশোনার সাথেই হাতেনাতে কাজের সুযোগ! সেনার এই বিশেষ ৭৫ দিনের ইন্টার্নশিপে মিলবে দুর্দান্ত কেরিয়ার গড়ার সুযোগ

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবং প্রতিরক্ষা সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তরুণ ও উদীয়মান প্রতিভাদের উৎসাহিত করতে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ করল ভারতীয় সেনাবাহিনী। সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বা বিজেএমসি (BJMC) নিয়ে পড়াশোনা করছেন এমন উচ্চশিক্ষা বা ফাইনাল ইয়ারের পড়ুয়াদের জন্য বিশেষভাবে ৭৪ বা ৭৫ দিনের একটি আকর্ষণীয় এবং মর্যাদাপূর্ণ বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বা ইন্টার্নশিপ চালু করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর এডিজি-র দফতর এবং এআইসিটিই (AICTE) ইন্টার্নশিপ পোর্টালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হল দেশের আগামী দিনের তরুণ সাংবাদিকদের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত যোগাযোগ কৌশল, কৌশলগত জনসংযোগ এবং সুনির্দিষ্ট মিডিয়া পরিকল্পনা সম্পর্কে হাতে-কলমে এবং ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা। এই বহুমুখী কোর্সটি সফলভাবে সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীরা তাদের অ্যাকাডেমিক পাঠ্যক্রমে মোট ১৫টি মূল্যবান ক্রেডিট পয়েন্ট অর্জন করার সুবর্ণ সুযোগ পাবেন।
এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির রূপরেখা অত্যন্ত সুসংহত এবং আধুনিক পদ্ধতিতে সাজানো হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম ১৫ দিন সমস্ত নির্বাচিত প্রার্থীদের জন্য অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা থাকবে। এরপর বাকি ৬০ দিন সরাসরি দেশের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থিত সেনার দপ্তরে কড়া এবং পেশাদার পরিবেশের মধ্যে অফলাইন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এই দীর্ঘ প্রশিক্ষণের সময় নির্বাচিত প্রার্থীরা ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি, সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেন পরিকল্পনা, উন্নত গবেষণা, মিডিয়া বিশ্লেষণ এবং সৃজনশীল কন্টেন্ট পরিচালনার সম্পূর্ণ ও খুঁটিনাটি প্রক্রিয়া হাতেকলমে শিখবেন। আধুনিক যুগের সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার যেমন ডেটা-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ডিজিটাল স্টোরিটেলিং এবং কার্যকর জনযোগাযোগের নানা কলাকৌশলও এই কোর্সের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা পড়ুয়াদের কেরিয়ারকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
এই ইন্টার্নশিপের অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো এর আর্থিক সুযোগ-সুবিধা। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা এই বিশেষ প্রশিক্ষণ চলাকালীন প্রতি মাসে আকর্ষণীয়ভাবে ৩০,০০০ টাকা করে মাসিক স্টাইপেন্ড বা উপবৃত্তি লাভ করবেন। প্রোগ্রামের সমস্ত শর্ত ও নির্দেশিকা সঠিকভাবে পূরণ করলে এই কোর্স চলাকালীন মোট ৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সেনার পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই আর্থিক উপবৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা এবং নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। কোনো শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ৭৫ শতাংশের কম হলে তিনি কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা বা স্টাইপেন্ড পাবেন না।
প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত স্পর্শকাতর বিষয় এবং গোপনীয়তা বজায় রাখার স্বার্থে এই ইন্টার্নশিপে যোগ দেওয়ার জন্য কিছু কঠোর নিয়মাবলী ও প্রটোকল মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে অফিসের অভ্যন্তরে ব্যক্তিগত ল্যাপটপ কিংবা স্মার্টফোন নিয়ে প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া হবে না। প্রধান গেটেই সমস্ত ইলেকট্রনিক ডিভাইস জমা রাখতে হবে। তবে দপ্তরের কাজের প্রয়োজনে নির্দিষ্ট এবং অনুমোদিত উদ্দেশ্যে স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারের বিশেষ অনুমতি দেওয়া হতে পারে। ইন্টার্নদের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ইন্টারনেট সংযোগ-সহ সমস্ত কম্পিউটার পরিকাঠামো প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেই সরবরাহ করা হবে। অফিসের কাজের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সোমবার থেকে শনিবার পর্যন্ত, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা অব্দি। এছাড়া সমস্ত ইন্টার্নদের বাধ্যতামূলকভাবে শালীন ফরমাল পোশাক পরিধান করতে হবে। পুরুষদের জন্য ফরমাল শার্ট, প্যান্ট এবং জুতো এবং মহিলাদের জন্য মার্জিত ভারতীয় বা পাশ্চাত্য ফরমাল পোশাক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আগ্রহী প্রার্থীদের জন্য আবেদনের শেষ তারিখ অত্যন্ত কড়াকড়িভাবে ধার্য করা হয়েছে। যে সকল শিক্ষার্থী আগামী ২ আগস্ট, ২০২৬ তারিখের মধ্যে নিজেদের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন, তাঁদের ইন্টার্নশিপ শুরু হওয়ার ঠিক আগেই কিছু অতিপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি বা পাসের শংসাপত্র, স্থানীয় থানা থেকে প্রাপ্ত পুলিশ ভেরিফিকেশনের শংসাপত্র, যেকোনো একটি সরকারি ছবিযুক্ত বৈধ পরিচয়পত্র এবং সম্প্রতি তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি। উল্লেখ্য, এই ইন্টার্নশিপ চলাকালীন দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের নিজেদের দায়িত্বে থাকার এবং আবাসন বা থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে হবে। ভারতীয় সেনাবাহিনী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবেই দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এবং এর মাধ্যমে চাকরি পাওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা নেই। মূলত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কৌশলগত যোগাযোগের উন্নত বোধ তৈরি করা এবং প্রতিরক্ষা সাংবাদিকতায় পেশাদার অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেওয়াই এই মহতী উদ্যোগের একমাত্র লক্ষ্য।