শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা নষ্ট করে স্কুলের অন্দরেই রমরমিয়ে মধুচক্র তথা দেহব্যবসা চালানোর এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর এবং নজিরবিহীন অভিযোগ সামনে এল। যেখানে দিনের আলোয় শিশুরা পড়াশোনা করতে আসে, রাতের অন্ধকার নামতেই সেই সমস্ত ক্লাসরুম পরিণত হতো অসামাজিক কাজের আখড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের সন্দেহের জেরে পুলিশি অভিযানে এই ঘটনার সত্যতা সামনে আসতেই চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের। স্কুল চত্বর থেকে উদ্ধার হয়েছে বস্তা বস্তা কন্ডোম, আপত্তিকর সামগ্রী এবং মদের বোতল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই এলাকার ওই নামী স্কুলটিকে কেন্দ্র করে এক রহস্যজনক গতিবিধি লক্ষ করছিলেন প্রতিবেশীরা। স্কুল ছুটি হয়ে যাওয়ার পর, বিশেষ করে রাতের দিকে কিছু বহিরাগত যুবক-যুবতীর আনাগোনা বাড়ছিল। মাঝেমধ্যেই গভীর রাত পর্যন্ত স্কুলের বিভিন্ন ঘর থেকে ভেসে আসত আপত্তিকর শব্দ ও গান-বাজনার আওয়াজ। প্রথমে বিষয়টি হালকাভাবে নিলেও, সন্দেহ তীব্র হওয়ায় এলাকার বাসিন্দারা বিষয়টি পুলিশে জানান।
অভিযোগ পেয়ে গত রাতে স্কুলটিতে আকস্মিক হানা দেয় পুলিশের একটি বিশেষ টিম। আর সেখানে প্রবেশ করতেই কার্যত থ বনে যান তদন্তকারীরা। দেখা যায়, শিশুদের বসার বেঞ্চ এবং ক্লাসরুমের কোণায় কোণায় ছড়িয়ে রয়েছে বিপুল পরিমাণ মদের বোতল, প্যাকেট এবং ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত বস্তা বস্তা কন্ডোম। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, স্কুলেরই কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা নিরাপত্তারক্ষীর মদতে দীর্ঘ সময় ধরে এখানে বহিরাগতদের এনে এই অনৈতিক দেহব্যবসার কারবার চালানো হচ্ছিল।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অভিভাবকেরা। নিজেদের সন্তানদের নিরাপত্তা ও স্কুলের পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও ইতিমধ্যেই বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কীভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং নজরদারি এড়িয়ে দিনের পর দিন এই ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে সমস্ত আপত্তিকর প্রমাণ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং এই চক্রের মূল পান্ডাদের খোঁজে জোরদার তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।





