তীব্র দাবদাহ আর ভ্যাপসা গরমের মাঝেই রাজ্যের মানুষের জন্য বড়সড় স্বস্তির পাশাপাশি আশঙ্কার খবর শোনাল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। শনিবার সন্ধের পর থেকেই রাজ্যের বেশ কিছু জেলায় আবহাওয়ার এক আমূল পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ধেয়ে আসতে চলেছে ঝড়-বৃষ্টি। কোনো কোনো জেলায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির জেরে তোলপাড় পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, হঠাৎ করে এই আবহাওয়ার পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একটি শক্তিশালী নিম্নচাপ এবং তার অনুকূল বায়ুপ্রবাহ। এই নিম্নচাপের জেরেই সমুদ্র থেকে হু হু করে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প ঢুকতে শুরু করেছে রাজ্যের বায়ুমণ্ডলে, যা বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরির জন্য আদর্শ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এর ফলেই ১৬ মে রাতে এবং ১৭ মে সকালের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের এক বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রকৃতির রুদ্ররূপ দেখা যেতে পারে।
হাওয়া অফিসের সাম্প্রতিক বুলেটিন অনুযায়ী, কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং হাওড়া, হুগলির মতো জেলাগুলোতে ঝড়ের দাপট সবচেয়ে বেশি থাকবে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু এলাকায় মেঘলা আকাশ এবং ঠান্ডা হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এই জেলাগুলির বাসিন্দাদের আগামী কয়েক ঘণ্টা সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে বজ্রপাতের সময় খোলা আকাশের নীচে বা গাছের তলায় না থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই অসময়ের ঝড়-বৃষ্টি যেমন একদিকের ভ্যাপসা গরম থেকে রাজ্যবাসীকে সাময়িক স্বস্তি দেবে, ঠিক তেমনই ঝোড়ো হাওয়ার কারণে আমচাষ বা ফসলের কিছু ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না কৃষি বিশেষজ্ঞরা। সমুদ্রের এই নিম্নচাপটি আগামী দিনে আরও কতটা শক্তিশালী রূপ নেয়, সেদিকেই এখন কড়া নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদেরা।





