পেটে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিল ১৫ বছরের এক কিশোরী। পরিবারের ধারণা ছিল সাধারণ কোনও শারীরিক সমস্যা। কিন্তু চিকিৎসকদের পরীক্ষার রিপোর্ট আসতেই স্তম্ভিত হয়ে গেলেন পরিজনরা। জানা গেল, নবম শ্রেণীর ওই স্কুলছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা! পঞ্জাবের জলন্ধরের এই ঘটনায় এখন চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা রাজ্যে।
হাসপাতালে নিয়ে যেতেই চক্ষু চড়কগাছ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অমৃতসরের বাসিন্দা ওই কিশোরী গত সাত মাস ধরে জলন্ধরে তার পিসির বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করছিল। গত ১৯ এপ্রিল হঠাৎই তার পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। তড়িঘড়ি তাকে ফিল্লোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলে চিকিৎসকরা জানান, কিশোরীটি অন্তঃসত্ত্বা এবং প্রসব বেদনা উঠেছে। সেখানেই সে একটি সন্তানের জন্ম দেয়।
সেই ‘অন্ধকার’ রাতের ভয়াবহতা
পিসির জিজ্ঞাসাবাদের মুখে কান্নায় ভেঙে পড়ে ওই কিশোরী। সে জানায়, কয়েক মাস আগে অমৃতসরে তাদের পাড়াতেই থাকা ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর তাকে ধর্ষণ করেছিল। লোকলজ্জা আর ভয়ে সেই কথা কাউকে জানাতে পারেনি সে। এমনকী দেড় মাস আগেও একবার পেটে ব্যথার জন্য তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু তখন বিষয়টি কারও নজরে আসেনি।
পুলিশি পদক্ষেপ ও ‘জিরো এফআইআর’
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে জলন্ধর গ্রামীণ পুলিশ গত ২০ এপ্রিল একটি ‘জিরো এফআইআর’ (Zero FIR) দায়ের করেছে। অভিযুক্ত কিশোরের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
ফিল্লোরের ডিএসপি ভরত মসিহ জানিয়েছেন:
“যেহেতু অপরাধটি অমৃতসর এলাকায় ঘটেছে, তাই বর্তমানে জিরো এফআইআর করা হয়েছে। দ্রুতই এই মামলা সংশ্লিষ্ট থানায় স্থানান্তরিত করা হবে এবং অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
নাবালিকা ছাত্রীর এই করুণ দশা এবং প্রতিবেশী কিশোরের লালসার এই ঘটনা আরও একবার সমাজ ও কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।





