দেশের বাজারে ফের মুদ্রাস্ফীতির কালো মেঘ। ক্রিসিলের সাম্প্রতিক ‘কুইকনমিক্স’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৪৪ মাসের রেকর্ড ভেঙে পাইকারি মূল্য সূচক (WPI) ভিত্তিক উৎপাদন-উপকরণ অনুপাত ১.০২-এ পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালী সংকটের জেরে অপরিশোধিত তেল ও কাঁচামালের দাম হু হু করে বাড়ছে। এপ্রিল মাসে উৎপাদন খরচ এক ধাক্কায় ৬.২% বৃদ্ধি পেলেও, উৎপাদিত পণ্যের দাম বেড়েছে মাত্র ০.৭%। অর্থাৎ, কোম্পানিগুলোর ওপর তৈরি হওয়া বিপুল আর্থিক চাপ এখন সাধারণ মানুষের পকেটে পড়ার অপেক্ষায়।
২০২৬ সালের এপ্রিলে দেশের সামগ্রিক পাইকারি মুদ্রাস্ফীতির হার মার্চের ৩.৯% থেকে এক লাফে ৮.৩%-এ দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে খাদ্যবহির্ভূত পাইকারি মূল্যস্ফীতি ১০.৯%-এর বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অপরিশোধিত তেল-সম্পর্কিত পণ্যের দাম ৪৯.৩%, অ্যালুমিনিয়ামের দাম ২০.৬% এবং গ্যাসের দাম ১৯.১% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
এতদিন কোম্পানিগুলো লাভের মার্জিন বজায় রাখতে এই বর্ধিত খরচ নিজেদের কাঁধে বহন করছিল। কিন্তু কাঁচামালের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধির ফলে উৎপাদকরা এখন দাম বাড়াতে বাধ্য হবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে দুধ, ওষুধ, পোশাক, আসবাবপত্র এবং অটোমোবাইল খাতের ওপর। বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে, আগামী মাসগুলোতে ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) বা খুচরা মুদ্রাস্ফীতিতে বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা যাবে। ক্রমবর্ধমান এই খরচের ধাক্কা সামলাতে সাধারণ মানুষকে এখন থেকেই আর্থিক প্রস্তুতির পথে হাঁটতে হবে।





