পকেটে টান পড়ার এই খবর কি আপনার জানা আছে? এক লাফে কতটা বাড়ল দৈনন্দিন খরচ জানলে শিউরে উঠবেন!

মুদ্রাস্ফীতির প্রবল ধাক্কায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। জ্বালানি এবং শক্তির লাগামছাড়া উচ্চমূল্যের মধ্যে সদ্য প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে দেশের পাইকারি মুদ্রাস্ফীতির হার লাফিয়ে বেড়ে ৯.৯২ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগের মাস অর্থাৎ জুলাই মাসে এই হার ছিল ৯.৭৮ শতাংশ। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, পণ্য বাজারে বর্তমান অনিশ্চয়তা এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি পাইকারি মুদ্রাস্ফীতিকে এক বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক উৎপাদন খাতের মুনাফা পুনরুদ্ধারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের প্রকাশিত প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আগস্ট মাসে সমস্ত পণ্যের পাইকারি মূল্য সূচক (ডব্লিউপিআই) বেড়ে হয়েছে ১১০.৮, যা জুলাই মাসে ছিল ১১০.০। এই পরিসংখ্যানগুলি নতুন ডব্লিউপিআই সিরিজের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষকে ভিত্তি বছর হিসেবে ধরা হয়েছে। অর্থনীতির তিনটি প্রধান খাতের মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে, যেখানে মূল্যস্ফীতি ২০.০৫ শতাংশ থেকে এক লাফে বেড়ে ২২.৯৩ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, উৎপাদিত পণ্যের মূল্যস্ফীতি সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ৮.৩৭ শতাংশ হয়েছে, তবে স্বস্তির বিষয় হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৭.৭৬ শতাংশে নেমে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাইকারি মূল্যস্ফীতির এই রেকর্ড বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হলো পেট্রোলিয়ামজাত খনিজ তেল, খাদ্যদ্রব্য, মৌলিক ধাতু এবং রাসায়নিক পণ্যের ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচ। খনিজ তেলের মূল্যস্ফীতি জুলাই মাসের ৩২.৪০ শতাংশ থেকে মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে আগস্ট মাসে ৩৮.৪৮ শতাংশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্যস্ফীতিও ২৬.৯৯ শতাংশ থেকে লাফিয়ে ৩৪.৪১ শতাংশ হয়েছে। উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের খরচ ৮.৮৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯.৬৫ শতাংশে এবং রাসায়নিক পণ্যের খরচ ১৩.১২ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪.৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

শিল্প মহলের আশঙ্কা, পাইকারি স্তরে উৎপাদন খরচ যদি দীর্ঘ সময় ধরে এমন উচ্চ পর্যায়ে থাকে, তবে আগামী সপ্তাহগুলোতে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) বা খুচরা মুদ্রাস্ফীতির ওপর, যার ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাজার খরচ আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে। বর্তমান বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যাঘাত এবং তীব্র জ্বালানি সংকটের পরিবেশের মধ্যে, পাইকারি মূল্য সূচকের এই আকাশচুম্বী হার ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের (আরবিআই) আসন্ন মুদ্রানীতি বৈঠকে সুদের হার হ্রাসের সম্ভাবনাকে অত্যন্ত জটিল ও অনিশ্চিত করে তুলেছে। সরকার জুন ২০২৬-এর চূড়ান্ত ডব্লিউপিআই সূচক সংশোধন করে ৯.৯৭ শতাংশ করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।