ন্যায়, নৈতিকতা ও দায়বদ্ধতার প্রশ্ন! প্রাক্তন DGP ভাস্করজ্যোতি মহন্তের পদত্যাগে জল্পনা তুঙ্গে, কী হতে চলেছে অসমের রাজনীতিতে?

অসমের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে রাজ্য সরকারের মুখ্য তথ্য আয়ুক্ত ভাস্করজ্যোতি মহন্তের (Bhaskar Jyoti Mahanta) আচমকা পদত্যাগ ঘিরে। দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনে নিষ্ঠা ও কঠোরতার জন্য পরিচিত এই প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিকের পদত্যাগ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
পদত্যাগের নেপথ্যে জুবিন গার্গ কাণ্ড? মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের শীর্ষ সূত্র নিশ্চিত করেছে যে ভাস্করজ্যোতি মহন্ত বুধবার মুখ্য তথ্য আয়ুক্তের পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং তা রাজ্যপালের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। যদিও সরকারিভাবে তিনি ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়েছেন, তবে সূত্রটি জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
এই পদত্যাগের সময়কাল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গার্গের মৃত্যুকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে কারাবন্দি রয়েছেন শ্যামকানু মহন্ত, যিনি ভাস্করজ্যোতি মহন্তের সহোদর ভাই। শ্যামকানু মহন্তের কারাবাসের পরেও তাঁর ভাই রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকায় সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে প্রবল সমালোচনা শুরু হয় এবং নানা মহল থেকে তাঁর পদত্যাগের দাবি ক্রমশ জোরদার হচ্ছিল।
বিশেষত, মুখ্যমন্ত্রী যখন জুবিন গার্গের মৃত্যুকে প্রকাশ্যে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন, ঠিক তখনই এই পদত্যাগ রাজ্যের রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
জিরো টলারেন্স নীতির প্রতিফলন: ২০২৩ সালের এপ্রিলে অসম পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর ভাস্করজ্যোতি মহন্তকে মুখ্য তথ্য আয়ুক্ত পদে নিয়োগ করা হয়েছিল। কর্মজীবনে তিনি শৃঙ্খলা ও সততার জন্য পরিচিত ছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদত্যাগ কেবল একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং এটি সরকারের স্বচ্ছতা ও কঠোর “জিরো টলারেন্স” নীতির প্রতিফলন। এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন ভাস্করজ্যোতি মহন্তের ব্যক্তিগত নৈতিকতার পরিচায়ক, তেমনই এটি সরকারের পক্ষ থেকে ন্যায়, নৈতিকতা ও দায়বদ্ধতার এক স্পষ্ট বার্তা, যা বুঝিয়ে দেয় যে সরকার ন্যায়ের প্রশ্নে কোনো আপোষ করে না।