আধুনিক সামুদ্রিক যুদ্ধে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে চলেছে ভারতীয় নৌবাহিনী। সমুদ্রের বিশাল নীল জলরাশির ওপর ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি চালাতে এবার আসছে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় নৌ-ড্রোন ‘মান্টা’ (MANTA)। ডিআইএসসি ১৪ ইনোভেশন চ্যালেঞ্জের আওতায় তৈরি এই ড্রোনটি কেবল নজরদারি নয়, বরং শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তু নিখুঁতভাবে নির্ধারণেও নৌসেনাকে সাহায্য করবে।
কেন এই ড্রোন গেম-চেঞ্জার? এতদিন পর্যন্ত নজরদারির জন্য জাহাজ, সাবমেরিন বা হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হতো, যা সহজেই শত্রুর রাডারে ধরা পড়ে যায়। কিন্তু ‘মান্টা’ ড্রোন আকারে ছোট এবং স্টিলথ (অদৃশ্য হওয়ার ক্ষমতা) প্রযুক্তিতে তৈরি হওয়ায় এটি শত্রুর নজর এড়িয়ে কাজ করতে সক্ষম।
মান্টা ড্রোনের দুর্ধর্ষ বৈশিষ্ট্য:
টানা সাত দিন ডিউটি: একবার সাগরে নামলে অন্তত ৭ দিন এবং ৭৫০ নটিক্যাল মাইলেরও বেশি এলাকা জুড়ে এটি একটানা কাজ করতে পারে।
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI): এতে থাকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিজে থেকেই শত্রু জাহাজ বা স্থাপনা শনাক্ত করবে এবং অভিযানের পরিকল্পনা তৈরি করবে।
মিনি ড্রোন বহনকারী: মান্টা ড্রোনটি নিজে একাই লড়বে না, এর ভেতরে থাকবে আরও দুটি ছোট ‘মাল্টি-কপ্টার’ ড্রোন, যা আকাশপথেও নজরদারি চালাবে।
অত্যাধুনিক সেন্সর: দিনরাত সচল স্যাটেলাইট যোগাযোগ, ইনফ্রারেড সেন্সর এবং লেজার রেঞ্জফাইন্ডারের মাধ্যমে এটি রিয়েল-টাইম তথ্য পাঠাবে নৌবাহিনীর সদর দপ্তরে।
স্বয়ংক্রিয় ও নিরাপদ: মানুষের কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই এই ড্রোন গভীর সমুদ্রে নেভিগেশন করতে পারবে এবং সংঘর্ষ এড়িয়ে চলতে সক্ষম। এর এনক্রিপ্টেড রেডিও সিস্টেম হ্যাকিংয়ের হাত থেকে একে রক্ষা করবে।
ভারতীয় নৌবাহিনীর এই নতুন ‘মান্টা’ ড্রোন শত্রুপক্ষের উপকূলরেখা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ওপর ক্রমাগত নজর রেখে ভারতের সামুদ্রিক সীমান্তকে এক দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করবে। ভারত মহাসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য রুখতে এই ড্রোন ভারতের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।





