নৈহাটির প্রাক্তন পুরপ্রধান অশোক চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার! বড়মা’র মন্দিরে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড়

উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটি পুরসভার রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড়। দীর্ঘদিন ধরে দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত নৈহাটির প্রাক্তন পুরপ্রধান অশোক চট্টোপাধ্যায় অবশেষে পুলিশের জালে। বুধবার সকালে নৈহাটির নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। বড়মা’র মন্দিরের আর্থিক তছরুপের অভিযোগেই এই গ্রেফতারি, যা নিয়ে শিল্পাঞ্চলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সূত্রের খবর, এরপর তাঁকে ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে।
একসময়ের নৈহাটির ‘পাওয়ার সেন্টার’ অশোক চট্টোপাধ্যায় ৩১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তিনবার জয়ী হয়ে পুরপ্রধানের দায়িত্ব সামলেছেন। দীর্ঘ ১৫ বছর ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাঁর দাপট ছিল প্রশ্নাতীত। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন হওয়ার সুবাদে স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর বিরুদ্ধে কেউ উচ্চবাচ্য করার সাহস পেতেন না। কিন্তু ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে সূর্য ডুবতে শুরু করে।
পুরকর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে আড়াই মাসের মধ্যে অশোকবাবু মাত্র দুবার পুরসভায় হাজিরা দিয়েছেন। রাজনৈতিক পালাবদলের পর নৈহাটির নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় পুরসভায় গিয়ে দেখতে পান, পুরপ্রধান তাঁর চেয়ারে নেই। যদিও বিধায়ক তাঁকে কাজে যোগ দেওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন, কিন্তু সেদিনই বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভে পড়ে তাঁকে ‘চোর চোর’ স্লোগান শুনতে হয়। অভিযোগ, পুরসভা চত্বরে তাঁকে হেনস্থা ও ধাক্কাধাক্কি করা হয়, যার ফলে আতঙ্কে তিনি আর পুরমুখী হননি।
অশোকবাবুর পরিবারের দুর্দিন শুরু হয় গত ১৩ জুন থেকে। তোলাবাজি ও বিজেপি কর্মীদের মারধরের অভিযোগে পুলিশ তাঁর ছেলে অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে। আদালত চত্বরেই উত্তেজিত জনতা পুলিশের হাত থেকে তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে এবং লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ে। এই ঘটনার পর থেকেই অশোকবাবু কার্যত গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। গত ১৯ জুন ইমেলের মাধ্যমে ব্যারাকপুরের মহকুমা শাসকের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠানোর পর থেকে তাঁকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
সবশেষে, নৈহাটির বিখ্যাত বড়মা’র মন্দির পরিচালন কমিটির দায়ের করা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগই তাঁর পতন নিশ্চিত করল। বুধবার সকালে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার সময় অশোকবাবু দাবি করেন, “পুলিশ কেন আমাকে গ্রেফতার করেছে, তা আমি জানি না। মন্দিরের আর্থিক তছরুপের বিষয়ে পরিচালন কমিটিই ভালো বলতে পারবে, আমি কিছুই জানি না।” একসময়ের দাপুটে পুরপ্রধানের এই অসহায় পরিণতি এখন নৈহাটির অলিতে-গলিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।