‘অবিলম্বে বদলি করা হোক!’ বিচারপতি এসপি শর্মার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস!

রাজস্থান হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব প্রকাশ শর্মাকে ঘিরে চলমান উচ্চপর্যায়ের বিতর্কের মাঝে একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সন্দীপ মেহতার করা কঠোর অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসার কয়েক মাস আগেই, যোধপুরের রাজস্থান হাইকোর্ট অ্যাডভোকেটস অ্যাসোসিয়েশন ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছে তাঁর বদলির দাবি জানিয়ে একটি লিখিত চিঠি পাঠিয়েছিল। সেই সময়েই চিঠিতে স্পষ্ট দাবি করা হয়েছিল যে, রাজস্থান হাইকোর্টে অবিলম্বে একজন স্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। আইনজীবীদের সংগঠনটি উল্লেখ করেছিল যে, বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতি আইনজীবী ও বিচার বিভাগের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে রাজস্থানের বাইরের অন্য কোনো হাইকোর্টে বদলি করার অনুরোধও জানানো হয়েছিল।

‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ প্রকাশিত একটি বিশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, গত ২৫শে এপ্রিল যোধপুর হাইকোর্ট অ্যাডভোকেটস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রঞ্জিত জোশী তৎকালীন প্রধান বিচারপতির কাছে এই চিঠি পাঠান। চিঠিতে বলা হয় যে, আদালতের অভ্যন্তরে আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে উন্নততর সমন্বয় এবং একটি সুস্থ কর্মপরিবেশ বজায় রাখার জন্য স্থায়ী প্রধান বিচারপতির বিকল্প নেই। এছাড়া, আদালত প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনজীবীদের সাথে উপযুক্ত যোগাযোগের অভাব এবং তাদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধার দীর্ঘস্থায়ী বঞ্চনার বিষয়টিও সামনে আনা হয়। আইনজীবীদের জন্য ছোট চেম্বার ও সভাকক্ষের মতো অতিপ্রয়োজনীয় সুবিধার করুণ দশার কথা তুলে ধরে বলা হয় যে, এই ধরনের প্রশাসনিক উদাসীনতা বিচার অঙ্গনের স্বাভাবিক কার্যকারিতার পরিপন্থী।

এই পুরো বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে যখন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সন্দীপ মেহতা প্রধান বিচারপতি এবং কলেজিয়ামের অন্যান্য সদস্যদের কাছে একাধিক চিঠি পাঠান। সেই চিঠিগুলিতে বিচারপতি শর্মার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং তাঁর সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ করা হয়। বিচারপতি মেহতা সাফ জানিয়ে দেন যে, অবিলম্বে বিচারপতি শর্মাকে অন্য রাজ্যে বদলি করা না হলে তা বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থের মারাত্মক ক্ষতি করবে। বর্তমানে এপ্রিল মাসের সেই পুরনো চিঠিটি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে, যা প্রমাণ করে যে বিচারপতি মেহতার পদক্ষেপের বহু আগেই স্থানীয় আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দানা বেঁধেছিল।