আইআইটি দিল্লিতে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল ক্যাম্পাস! ৩ বছরে ৯টি আত্মহত্যার ঘটনায় কাঠগড়ায় কোন ত্রুটি?

দেশজুড়ে শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি বা আইআইটি (IIT) দিল্লিতে ৩০ বছর বয়সি এমএসসি ফিজিক্সের ছাত্র হৃষীকেশ কুমারের মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এই বেদনাদায়ক ঘটনার পর থেকেই আইআইটি দিল্লির সাধারণ শিক্ষার্থীরা ফুঁসে উঠেছেন এবং বিভিন্ন জোরালো দাবিতে লাগাতার আন্দোলন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে চলেছেন। ছাত্রছাত্রীদের এই প্রতিবাদের অন্যতম মূল দাবি হলো—ক্যাম্পাসের ভেতরের সামগ্রিক পরিবেশকে পুরোপুরি ছাত্র-বান্ধব এবং মানসিক চাপমুক্ত করে তোলা, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের অনভিপ্রেত ছাত্রমৃত্যু বা আত্মহত্যার মর্মান্তিক ঘটনাগুলির পুনরাবৃত্তি চিরতরে রোধ করা সম্ভব হয়। শিক্ষার্থীদের এই দাবিকে অত্যন্ত যৌক্তিক ও সময়োপযোগী বলে মনে করা হচ্ছে, যার পেছনে রয়েছে এই prestigious প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী এক উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান। গত তিন বছরের ট্র্যাক রেকর্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আইআইটি দিল্লির মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে একের পর এক ছাত্রমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা গোটা শিক্ষা জগতকে গভীর ভাবনায় ফেলে দিয়েছে।
পরিসংখ্যানের গভীরে প্রবেশ করলে দেখা যায় যে, বিগত তিন বছরে আইআইটি দিল্লিতে মোট ৯ জন ছাত্র আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। ১৪ জুলাই ২০২৩ থেকে শুরু করে ২০ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে এই সমস্ত মর্মান্তিক ঘটনাগুলি নথিভুক্ত হয়েছে। সংগৃহীত তথ্যা অনুযায়ী, এই আত্মঘাতী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যাটি হলো বিটেক (B.Tech) কোর্সের পড়ুয়াদের। গত তিন বছরে যে ৯ জন ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনা আইআইটি কর্তৃপক্ষ নথিভুক্ত করেছে, তাদের মধ্যে ৫ জনই ছিলেন বিটেক স্তরের ছাত্র। পাশাপাশি, ২ জন এমএসসি (MSc), ১ জন এমটেক (M.Tech) এবং ১ জন পিএইচডি (Ph.D.) গবেষক ছাত্র এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। অর্থাৎ, স্নাতক থেকে শুরু করে উচ্চতর গবেষণার স্তর—সর্বত্রই যেন মানসিক অবসাদের কালো ছায়া নেমে এসেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বিগত তিন বছরে আইআইটি দিল্লিতে আত্মঘাতী হওয়া ৯ জন শিক্ষার্থীই ছিলেন পুরুষ ছাত্র। এর মধ্যে ভয়ংকর তথ্যটি হলো, এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলির প্রায় ৮টিই সংঘটিত হয়েছে সরাসরি আইআইটি দিল্লি ক্যাম্পাসের ভেতরে, আর মাত্র একটি ক্ষেত্রে ছাত্রটি নিজের বাড়িতে আত্মঘাতী হয়েছিলেন। ফলস্বরূপ, বর্তমান পরিস্থিতিতে আইআইটি দিল্লি ক্যাম্পাস যেন অনিচ্ছাকৃতভাবে হলেও ছাত্র আত্মহত্যার একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু বা হটস্পট হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের সংগৃহীত তথ্যে আরও প্রকাশ পেয়েছে যে, এই ৯ জনের মধ্যে ৬ জন শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে বা ফান্দে ঝুলে প্রাণ হারিয়েছেন, ২ জন উঁচু ভবন বা ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মঘাতী হয়েছেন, এবং বাকি ১ জনের আত্মহত্যার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি বা প্যাটার্নটি অজ্ঞাত রয়ে গেছে।
বছরভিত্তিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, চলতি ২০২৬ সালে ইতিমধ্যেই ছাত্র আত্মহত্যার ৩টি বিচ্ছিন্ন ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। একইভাবে, ২০২৩ সালেও ৩টি মর্মান্তিক ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। এর মধ্যে ২০২৪ সালে দুটি এবং ২০২৫ সালে ১টি ছাত্র আত্মহত্যার ঘটনা আইআইটি দিল্লির খাতায় উঠেছে। মেধাবী তরুণদের এই ধরণের ধারাবাহিক জীবনাবসান দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার মানসিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং অতিরিক্ত প্রতিযোগিতামূলক চাপের বাস্তবতাকে তীব্রভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।